হরমুজ প্রণালি এখন যুদ্ধাঞ্চলে পরিণত হয়েছে : ইরান
মেলবোর্ন, ১২ মে- মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাঞ্চল হিসেবে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ শাখা। আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সামরিক…
মেলবোর্ন, ১২ মে- দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতিতে আবারও বড় ঝড় তুলেছে আলোচিত “ফার্মগেট কেলেঙ্কারি”। এই ঘটনায় প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশের পর এখন বিষয়টি আনুষ্ঠানিক তদন্তের পর্যায়ে যাচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।
পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ গত সোমবার জানিয়েছে, স্পিকার একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করবেন। এই কমিটিই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখবে এবং অভিশংসনের সুপারিশ করা হবে কি না, সে বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত দেবে। ধারণা করা হচ্ছে, তদন্ত ও আলোচনা কয়েক মাস ধরে চলতে পারে।
এই পদক্ষেপের পেছনে মূল কারণ হলো দক্ষিণ আফ্রিকার সাংবিধানিক আদালতের সাম্প্রতিক রায়। গত সপ্তাহে আদালত জানায়, ২০২০ সালে ফার্মগেট কেলেঙ্কারির বিষয়ে পার্লামেন্টে যে তদন্ত আটকে দেওয়া হয়েছিল, সেটি সংবিধানসম্মত ছিল না। এর ফলে প্রায় চার বছর ধরে থেমে থাকা তদন্ত আবারও সামনে আসে এবং অভিশংসনের পথ খুলে যায়।
ফার্মগেট কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটে ২০২০ সালে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট রামাফোসার মালিকানাধীন “ফালা ফালা” নামের বাগানবাড়িতে সোফার ভেতরে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় প্রায় ৪০ লাখ মার্কিন ডলার পাওয়া যায়। পরে জানা যায়, ওই অর্থ সেখানে গোপনে রাখা ছিল। ঘটনাটি ২০২২ সালে প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয় এবং প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।
প্রেসিডেন্ট রামাফোসা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ তাকে রাজনৈতিকভাবে বড় চাপে ফেলে দেয়। প্রশ্ন ওঠে, এত বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার উৎস কী, কেন তা ব্যাংকে না রেখে গোপনে রাখা হয়েছিল এবং তিনি বিষয়টি আগে জানতেন কি না। বিরোধী দলগুলো দাবি করে, অর্থের উৎস অস্পষ্ট এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে।
তীব্র বিতর্কের মধ্যেও রামাফোসা বারবার অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং কোনো ধরনের বেআইনি কাজে জড়িত থাকার কথা নাকচ করেন। তবে তদন্ত থেমে থাকেনি। এখন আদালতের নির্দেশে আবারও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে এসেছে এবং এটি সরাসরি অভিশংসনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
গত সপ্তাহে আদালতের রায়ের পর প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি বিচার বিভাগের সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন। একই সঙ্গে গতকাল সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি স্পষ্ট করেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। বরং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং তদন্ত প্রতিবেদনকে চ্যালেঞ্জ করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
রামাফোসা বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। তিনি জানান, তিনি দায়িত্বে থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চান।
তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপ ক্রমেই বাড়ছে। দেশটির শাসক দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসছে। দলটির অভ্যন্তরেও এ বিষয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্ত কমিটির রিপোর্টে যদি প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবুও তাকে সরিয়ে দেওয়া সহজ হবে না। দক্ষিণ আফ্রিকার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করতে হলে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন, যা বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে অর্জন করা কঠিন হতে পারে।
২০২৪ সালের নির্বাচনের পর আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস আগের মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও পার্লামেন্টে এখনো বড় অবস্থান ধরে রেখেছে। ফলে অভিশংসন প্রক্রিয়া রাজনৈতিকভাবে জটিল এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সব মিলিয়ে ফার্মগেট কেলেঙ্কারি এখন দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় চাপের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি ও পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তই ঠিক করবে, প্রেসিডেন্ট রামাফোসা শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবেন কি না।
সূত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au