বিরল হান্টা ভাইরাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
মেলবোর্ন, ১২ মে- বিরল ও প্রাণঘাতী হান্টা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘিরে বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে অবস্থান করা একটি প্রমোদতরীতে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবে…
মেলবোর্ন, ১২ মে- ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি ও পারমাণবিক আলোচনা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় পৌঁছানোয় ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক হামলার চিন্তা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে একাধিক মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় বর্তমানে ট্রাম্প অনেক বেশি কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ক্রমেই হতাশ ও অধৈর্য হয়ে উঠছেন।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান যেভাবে আলোচনা পরিচালনা করছে তাতে হোয়াইট হাউসের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা, ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের ভেতরে বিভক্তি রয়েছে। ফলে দেশটি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।
মার্কিন প্রশাসনের একটি সূত্র বলেছে, যুদ্ধ বন্ধ এবং উত্তেজনা কমানোর প্রস্তাবের জবাবে ইরান যেসব বার্তা দিয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যথেষ্ট অস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থপূর্ণ মনে হয়েছে। এতে ওয়াশিংটনের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে, তেহরান আদৌ আন্তরিকভাবে আলোচনায় আগ্রহী কি না।
এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি অংশ ইরানের বিরুদ্ধে দ্রুত নতুন হামলার পক্ষে মত দিচ্ছে। তাদের যুক্তি, সামরিক চাপ বাড়ালে ইরান আরও দুর্বল হয়ে পড়বে এবং শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে বাধ্য হবে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেই এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। আরেকটি পক্ষ মনে করছে, এখনই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও কিছু সময় দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়েও অসন্তুষ্ট। তাদের অভিযোগ, পাকিস্তান ইরানের কাছে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকৃত অবস্থান যথাযথভাবে তুলে ধরছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরান যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে যেসব ইতিবাচক বার্তা দেয়, পাকিস্তান সেগুলোকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে ওয়াশিংটনের কাছে উপস্থাপন করছে। ফলে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে কূটনৈতিক বার্তার ফারাক তৈরি হচ্ছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, পাকিস্তান এবং কয়েকটি আরব দেশ ইতোমধ্যে ইরানকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে ট্রাম্প বর্তমান আলোচনা প্রক্রিয়ায় সন্তুষ্ট নন। একইসঙ্গে তারা তেহরানকে সতর্ক করে বলেছে, এটিই হতে পারে কূটনৈতিক সমাধানের শেষ সুযোগ।
ওই কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ইরান এসব সতর্কবার্তাকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। বরং তারা সময়ক্ষেপণের কৌশল নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এর সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। তাদের মতে, নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর তার বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।
সূত্র : সিএনএন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au