বিরল হান্টা ভাইরাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
মেলবোর্ন, ১২ মে- বিরল ও প্রাণঘাতী হান্টা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘিরে বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে অবস্থান করা একটি প্রমোদতরীতে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবে…
মেলবোর্ন, ১২ মে- বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের অন্যতম বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, অভিনেতা, নাট্যনির্দেশক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক মঞ্চসারথি আতাউর রহমান আর নেই। সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু। গুণী এই নাট্যব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাশেদ মামুন অপু এক শোকবার্তায় বলেন, “অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের সম্মানিত সদস্য এবং আমাদের সবার প্রিয় অভিভাবক মঞ্চসারথি আতাউর রহমান কিছুক্ষণ আগে ইন্তেকাল করেছেন। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৮ মে) নিজ বাসায় হঠাৎ পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন আতাউর রহমান। এরপর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। প্রথমে তাকে রাজধানীর গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন উল্লেখ করে জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউ সাপোর্ট দেওয়ার পরামর্শ দেন।
তবে ওই হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় দ্রুত তাকে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভর্তির পরপরই তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। কয়েকদিন চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় সাময়িকভাবে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু রোববার (১০ মে) আবারও তার অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে সোমবার গভীর রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আতাউর রহমানের মৃত্যুতে দেশের নাট্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের শিল্পী, নির্মাতা, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গুণী এই শিল্পীর স্মৃতিচারণ করছেন তার সহকর্মী ও ভক্তরা।
১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন আতাউর রহমান। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি বাংলাদেশের মঞ্চনাট্য আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে আধুনিক নাট্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তিনি একাধারে অভিনেতা, নাট্যনির্দেশক, নাট্যসংগঠক ও লেখক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের বিকাশে তার অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। নাটকের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক জাগরণে তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
নাট্যনির্দেশনা ও অভিনয়ে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননাগুলোর মধ্যে একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। এছাড়াও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেন।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই মনে করেন, আতাউর রহমানের মৃত্যু বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। কারণ তিনি শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন নাট্য আন্দোলনের এক প্রেরণার নাম। নতুন প্রজন্মের নাট্যকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন একজন অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক।
দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য নাটক মঞ্চায়ন, অভিনয় এবং নাট্যসংগঠন গড়ে তোলার মাধ্যমে তিনি দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ীভাবে লিখে গেছেন। তার হাত ধরেই অনেক শিল্পী নাট্যাঙ্গনে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন।
তার মৃত্যুতে দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, নাট্যদল এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শোক প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে তার কর্মময় জীবনের নানা অবদানের কথাও স্মরণ করছেন তারা।
বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের ইতিহাসে আতাউর রহমানকে একজন পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার মৃত্যুতে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au