অস্ট্রেলিয়া

বিতর্কিত কর সংস্কার সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬ বাজেট, রাজনীতিতে উত্তাপ

  • 4:12 pm - May 12, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৮৯ বার
অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬ সালের বাজেটকে ঘিরে বড় ধরনের কর সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রেজারার জিম চ্যালমার্স। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১২ মে- অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬ সালের বাজেটকে ঘিরে বড় ধরনের কর সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রেজারার জিম চ্যালমার্স। পার্লামেন্টে বাজেট পেশের আগে দেওয়া বক্তব্য ও নথি ফাঁসের পর দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং বিশেষ করে আবাসন খাতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

চ্যালমার্স জানিয়েছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সরকার এবার কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তিনি বলেন, “এখন সিদ্ধান্ত না নিলে ভবিষ্যতে সমস্যাগুলো আরও বড় হয়ে উঠবে। তাই আমরা সহজ পথ নয়, সংস্কারের কঠিন পথ বেছে নিয়েছি।”

তিনি আরও জানান, এবারের বাজেটে পাঁচটি বড় নীতিপ্যাকেজ থাকবে। এগুলো হলো অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও আবাসন সমস্যা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কর সংস্কার ও সাশ্রয়।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো সম্পত্তি খাতে কর সুবিধা নিয়ে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স ছাড় ও নেগেটিভ গিয়ারিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা, যা বহু বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ার সম্পত্তি বিনিয়োগ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করছে।

চ্যালমার্স বলেন, “আমরা জানি এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক অস্ট্রেলীয় এখনো বাড়ির বাজার থেকে বাদ পড়ে আছে। বর্তমান কর ব্যবস্থা সেই সমস্যা আরও বাড়াচ্ছে।”

সরকারের মতে, কর ব্যবস্থার কারণে সম্পত্তি বাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে, যেখানে বেশি মূলধন থাকা বিনিয়োগকারীরা সুবিধা পাচ্ছেন, আর তরুণরা বাড়ি কেনার সুযোগ হারাচ্ছেন।

তবে বিরোধীরা এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে। কনজারভেটিভ নেতা সাইমন কেনেডি বলেছেন, এই পরিবর্তন “প্রজন্মগত বৈষম্য আরও স্থায়ী করবে”। তার মতে, নেগেটিভ গিয়ারিং ও কর ছাড় ব্যবস্থা তুলে দিলে তরুণরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং এটি কার্যত একটি কর বৃদ্ধির মতো।

তিনি দাবি করেন, “যারা এখন তরুণ, তারা ভবিষ্যতে একই সুবিধা পাবে না, যা আগের প্রজন্ম পেয়েছে। এটি ন্যায্য নয়।”

অন্যদিকে লেবার দলের সংসদ সদস্য স্যালি সিতু বলেন, বর্তমান কর কাঠামো মূলত ধনীদেরই বেশি সুবিধা দিচ্ছে। তার মতে, ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স সরকারের রাজস্বের মাত্র ছোট অংশ যোগ করে, কিন্তু এর সুবিধা মূলত বড় বিনিয়োগকারীরাই ভোগ করেন। তিনি বলেন, “এটি একটি অযৌক্তিক ব্যবস্থা, যা পুনর্গঠন প্রয়োজন।”

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই বাজেট একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে সামাজিক চাপ সামলানোর মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা। অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি সুদের হার বাড়ানোর পর সরকারি ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত সরকারি ব্যয় মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ইতোমধ্যে ৬৪ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের পরিকল্পনা করেছে।

আবাসন খাত নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, কর ছাড় কমালে বাড়ি ভাড়া বাড়বে না বরং প্রথমবার বাড়ি কেনার সুযোগ বাড়বে। আবার কিছু বিনিয়োগকারী মনে করেন, এতে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং সম্পত্তির দাম সাময়িকভাবে কমতে পারে।

একজন অর্থনীতিবিদ ম্যাট গ্রান্ডফ বলেন, বর্তমান ব্যবস্থা বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত সুবিধা দেয় এবং বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি করে। তার মতে, পরিবর্তন হলে ভাড়াটিয়া ও ক্রেতা উভয়ের ওপর প্রভাব পড়তে পারে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে ভারসাম্য আনতে সাহায্য করবে।

অন্যদিকে কিছু বিনিয়োগকারী মনে করেন, নীতিগত পরিবর্তনের মানসিক প্রভাব বাস্তব অর্থনৈতিক প্রভাবের চেয়ে বেশি হতে পারে। তাদের মতে, মানুষ যদি মনে করে কর সুবিধা কমছে, তাহলে বিনিয়োগের প্রবণতা কমে যেতে পারে।

চ্যালমার্স তার বক্তব্যে আরও বলেন, সরকার আবাসন সংকট মোকাবিলায় ১২ লাখ নতুন বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য নিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের জন্য বাড়ি কেনা সহজ করতে হলে কর ও আবাসন নীতিতে পরিবর্তন আনতেই হবে।

সরকারের অভ্যন্তরীণ নথি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর জানা গেছে, বাজেট ঘোষণার আগে দলীয় এমপিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে এই পরিবর্তনগুলো “সঠিক সময়ে সঠিক নীতি গ্রহণের অংশ”।

নথিতে আরও উল্লেখ আছে, তরুণদের মধ্যে বাড়ি কেনা নিয়ে যে হতাশা তৈরি হয়েছে, সরকার তা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং সেই লক্ষ্যেই নীতি পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

২০২৬ সালের এই বাজেটকে অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত বাজেটগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর সংস্কার, আবাসন সংকট এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চাপ একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে সরকার যে কঠিন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তার প্রভাব আগামী দিনে দেশের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

সূত্রঃ news.com.au

এই শাখার আরও খবর

অস্ট্রেলিয়ায় গাড়িচাপায় পা হারালেন নারী এমপি, হামলাকারী পারিবারিক বন্ধু

অস্ট্রেলিয়ায় স্বতন্ত্র নারী সংসদ সদস্য হেলেন হেইন্সকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে হামলাকারীর পরিচয় ঘিরে। ৬৫ বছর বয়সী এই এমপির ওপর…

ইরানে ফের হামলার ইঙ্গিত নেতানিয়াহুর, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা

ইরানে আবারও হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তিনি ইরানের সরকারের পতন ঘটানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ…

যুদ্ধ এড়াতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল পাকিস্তান ও কাতার

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুই দেশের কাছে…

বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন: বিদায়ের বেদনা, ঐতিহ্য, ধর্মীয় তাৎপর্য ও সম্প্রীতির মহামিলন

শরতের নির্মল আকাশ, সাদা কাশফুলের দোলা, শিউলি ফুলের স্নিগ্ধ সুবাস, ঢাকের মধুর বাদ্য আর চারদিকে উৎসবের আমেজ—এসবের মধ্য দিয়েই বাঙালির হৃদয়ে আবির্ভূত হয় শারদীয় দুর্গোৎসব।…

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড: আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম

‘আমি কেমনে বাঁচুম রে, আমার সুইটিরে আইনা দ্যাও রে। আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম।’ সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মেয়ে সুইটি আক্তারের…

ধামরাইয়ের ৫২০ কেজির অষ্টধাতুর দুর্গাপ্রতিমা, হবে না বিসর্জন

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: ঢাকার ধামরাইয়ের বণিকবাড়িতে ৫২০ কেজি ওজনের অষ্টধাতুর দুর্গাপ্রতিমার পূজা চলছে। আগামীকাল বুধবার পূজা শেষে এটি দেওয়া হবে না বিসর্জন। এটিই এখানকার রীতি।…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au