বিরল হান্টা ভাইরাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
মেলবোর্ন, ১২ মে- বিরল ও প্রাণঘাতী হান্টা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘিরে বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে অবস্থান করা একটি প্রমোদতরীতে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবে…
মেলবোর্ন, ১২ মে- বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি বণ্টন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং তিস্তা নদী প্রকল্পসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার এবং নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাটস্ট্র্যাট’-এর কনভেনর পঙ্কজ শরণ। তিনি বলেছেন, তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণ বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত এবং এ বিষয়ে ভারত কোনোভাবেই বাংলাদেশকে থামাতে পারে না, তবে উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারে, কারণ এটি দুই দেশের অভিন্ন নদীর সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়।
সম্প্রতি নয়াদিল্লির সুষমা স্বরাজ ভবনে সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি চীনের সহযোগিতায় তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায়, সেটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নীতিমালায় কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রকে তার উন্নয়ন পরিকল্পনা থেকে অন্য রাষ্ট্র সরাসরি বিরত রাখতে পারে না। তবে অভিন্ন নদীর ক্ষেত্রে পারস্পরিক উদ্বেগ ও আলোচনা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি সীমান্ত পরিস্থিতিকে “দুর্ভাগ্যজনক” উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে যেসব সমস্যা দেখা যাচ্ছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, অস্ত্র ও অপরাধমূলক কার্যক্রম একটি বিপজ্জনক মিশ্রণ তৈরি করছে, যেখানে সাধারণ মানুষও জড়িয়ে পড়ছে। এই সমস্যার সমাধান দুই দেশের সরকারকেই যৌথভাবে করতে হবে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং কার্যকর করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। তার মতে, বৈধভাবে মানুষ ও পণ্যের চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোকে তিনি প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
গঙ্গা নদীর ৩০ বছর মেয়াদি পানি বণ্টন চুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে এবং নতুন করে চুক্তি নবায়নের আলোচনায় পানি প্রবাহের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তি বছর পরিবর্তনের বিষয়টি আসতে পারে। তবে তিনি জানান, গঙ্গা চুক্তি নিয়ে বড় কোনো নেতিবাচক অগ্রগতি বা বিরোধ দেখা যাচ্ছে না। এটি এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল একটি প্রক্রিয়া হিসেবে রয়েছে।
পঙ্কজ শরণ তিস্তা প্রকল্প প্রসঙ্গে আরও বলেন, এই নদী বাংলাদেশের উন্নয়ন ও পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে, তবে যেহেতু এটি একটি অভিন্ন নদী, তাই এর ব্যবস্থাপনায় আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সংলাপ জরুরি। তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, ভারত বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে না, তবে উদ্বেগ জানানো এবং আলোচনার সুযোগ সবসময় থাকবে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার একই রাজনৈতিক দলের অধীনে থাকায় ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সমন্বিত হতে পারে। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে নীতিগত পার্থক্য কমলে বাংলাদেশ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আরও মন্তব্য করে তিনি বলেন, অতীতের মতো সন্দেহ ও অবিশ্বাসের পরিবেশ বজায় রাখা কোনো সমাধান নয়। বর্তমান সময়ে দুই দেশেরই প্রযুক্তি, যোগাযোগ এবং সমন্বয়ের সক্ষমতা বেড়েছে, যা সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি বলেন, সীমান্ত সমস্যার সমাধানে আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্য বিনিময় এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উগ্রবাদ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে যাতে কোনো ধরনের উগ্রবাদী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সুযোগ নিতে না পারে। তিনি মিয়ানমারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকেও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেন।
গোয়েন্দা সহযোগিতা নিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে, যাদের কাজ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষা করা। অনেক সময় বিভিন্ন দেশের মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সহযোগিতা হয়ে থাকে, যা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এ নিয়ে যেসব অপপ্রচার রয়েছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ভারতের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি সংবেদনশীল বিষয়, যেখানে রাজনৈতিক ও আইনি দিক দুটিই জড়িত। বিষয়টি দুই দেশের সরকারকেই কূটনৈতিকভাবে পরিচালনা করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভারতের নতুন হাইকমিশনার নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীনেশ ত্রিবেদী একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং অর্থনীতি ও প্রশাসন সম্পর্কে তার ভালো ধারণা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত হাইকমিশনার বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবেন।
সবশেষে পঙ্কজ শরণ বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ভবিষ্যতে নির্ভর করবে পারস্পরিক আস্থা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি বণ্টন এবং রাজনৈতিক সমন্বয়ের ওপর। দুই দেশ যদি বাস্তববাদী ও সহযোগিতামূলক পথে এগোয়, তাহলে সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল ও শক্তিশালী হবে।
সূত্রঃ ঢাকা পোস্ট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au