বিরল হান্টা ভাইরাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
মেলবোর্ন, ১২ মে- বিরল ও প্রাণঘাতী হান্টা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘিরে বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে অবস্থান করা একটি প্রমোদতরীতে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবে…
মেলবোর্ন, ১২ মে- সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি শ্রমিককে হঠাৎ করে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে পাকিস্তানি শিয়া সম্প্রদায়ের শ্রমিকদের লক্ষ্য করে ধরপাকড় ও বিতাড়ন চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও ধর্মীয় নেতারা। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দুই দেশ পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বেড়েছে।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত এবং পরবর্তী যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়েছে আবুধাবি। এর জের ধরেই পাকিস্তানিদের জন্য শ্রমবাজার সংকুচিত করা এবং ভিসা নবায়ন বন্ধের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকেই পাকিস্তানি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ শ্রমিকরা, যাদের আয়ের ওপর পাকিস্তানের লাখো পরিবার নির্ভরশীল।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি উদ্যোগে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছে পাকিস্তান। তবে ইরানি হামলার ঘটনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রত্যাশিত অবস্থান নেয়নি ইসলামাবাদ। এতে ক্ষুব্ধ হয় আবুধাবি।
নিউইয়র্ক টাইমস অন্তত ২০ জন পাকিস্তানি শিয়া শ্রমিকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তারা জানিয়েছেন, গত এক মাসে হঠাৎ করে তাদের আটক করা হয় এবং পরে কোনো ধরনের ব্যাখ্যা ছাড়াই পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়।
পাকিস্তানের শিয়া ধর্মীয় নেতাদের দাবি, এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার পাকিস্তানি শিয়া শ্রমিককে আমিরাত থেকে বিতাড়ন করা হয়েছে।
তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি গণহারে বিতাড়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যারা অপরাধে জড়িত, কেবল তাদেরই ফেরত পাঠানো হচ্ছে।” যদিও শিয়া সম্প্রদায়কে আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেননি।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
আমিরাত সরকারের ঘনিষ্ঠ ভাষ্যকার নাদিম কোটেইচ বলেন, পাকিস্তান আবুধাবির সঙ্গে পর্যাপ্ত সমন্বয় না করেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ইস্যুতে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছিল।
এই উত্তেজনার প্রভাব অর্থনৈতিক সম্পর্কেও পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানের কাছে তাদের ৩৫০ কোটি ডলারের ঋণ ফেরত চেয়েছে, যা দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সমান।
তবে সংকটের সময় সৌদি আরব পাকিস্তানের রিজার্ভ সচল রাখতে ৩০০ কোটি ডলার জমা রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বর্তমানে ২০ লাখের বেশি পাকিস্তানি বসবাস করেন। গত বছর তারা প্রায় ৮০০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন, যা পাকিস্তানের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
বিতাড়িত শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের কাউকে কোনো কারণ জানানো হয়নি। এমনকি ব্যক্তিগত মালামাল গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি।
২৫ বছর বয়সী আলী হামজা জানান, গত ১৩ এপ্রিল সাদাপোশাকের কর্মকর্তারা তাকে অফিস থেকে আটক করে আল-আউইর ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যান। পরে ২১ এপ্রিল তাকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়।
উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের বাসিন্দা হায়দার আলী বঙ্গশ বলেন, “তারা কোনো কারণ বলেনি। কিন্তু আমরা বুঝেছি, আমাদের একমাত্র অপরাধ আমরা শিয়া।”
এদিকে আমিরাতের অন্তত ১২টি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার জানিয়েছেন, পাকিস্তানি কর্মীদের ভিসা নবায়ন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে নতুন ভিসাও দেওয়া হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরব, আমিরাত ও ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূরাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে পড়ে এখন কঠিন কূটনৈতিক চাপে রয়েছে পাকিস্তান।
সুত্রঃ দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au