নন্দীগ্রাম নয়, মমতাকে হারানো আসন থেকে বিধায়ক হলেন শুভেন্দু
মেলবোর্ন, ১৩ মে- পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভার সদস্য হিসেবে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে শপথ গ্রহণ করেছেন। যদিও এবারের নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম ও কলকাতার ভবানীপুর-দুই…
মেলবোর্ন, ১৩ মে: অস্ট্রেলিয়ার ট্রেজারার জিম চালমার্স ২০২৬ সালের ফেডারেল বাজেট উপস্থাপন করে একে “দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চাভিলাষী বাজেট” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে সরকার এই বাজেটকে “প্রতিকূলতার মুখে সাহসী পরিকল্পনা” বলে উল্লেখ করেছে।
মঙ্গলবার রাতে পার্লামেন্টে বাজেট উপস্থাপনকালে চালমার্স বলেন,
“বিশ্ব আমাদের সামনে একের পর এক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে, আর এই বাজেট সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়াকে সহায়তা করার পরিকল্পনা।”
এই বাজেটের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, নতুন করছাড়, আবাসন সংকট নিরসন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি।
সরকার ঘোষণা করেছে, কর্মজীবীদের জন্য ২৫০ ডলারের বিশেষ কর রিবেট দেওয়া হবে। পাশাপাশি জ্বালানির মূল্য কমাতে তিন মাসের জন্য ফুয়েল এক্সসাইজ অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত এসেছে আবাসন খাতে। গত নির্বাচনের আগে অস্ট্রেলিয়ান লেবার পার্টির নেতারা নেগেটিভ গিয়ারিং ও ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্সে (CGT) পরিবর্তন না আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও এবার সরকার অবস্থান বদলেছে।
২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ৫০ শতাংশ CGT ডিসকাউন্ট বাতিল করে মূল্যস্ফীতিভিত্তিক নতুন করছাড় পদ্ধতি চালু করা হবে এবং মুনাফার ওপর ন্যূনতম ৩০ শতাংশ কর আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে নেগেটিভ গিয়ারিং সুবিধা শুধুমাত্র নতুন নির্মিত বাড়ির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করা হবে। তবে যেসব বিনিয়োগকারী ইতোমধ্যে এই সুবিধা পাচ্ছেন, তারা এতে প্রভাবিত হবেন না।
চালমার্স বলেন,
“বাড়ির দাম ১৯৯৯ সালের পর থেকে ৪০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা গড় আয়ের বৃদ্ধির দ্বিগুণেরও বেশি। তরুণদের জন্য বাড়ি কেনার সুযোগ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।”
তার ভাষায়,
“এই পরিবর্তন বিতর্কিত, আমি তা স্বীকার করি। কিন্তু সরকার যখন সঠিক কারণে অবস্থান পরিবর্তন করে, তখন সেই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেওয়াও সরকারের দায়িত্ব।”
সরকারের দাবি, এই সংস্কারের ফলে প্রায় ৭৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান প্রথমবারের মতো বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ পাবে।
বাজেটে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ৭.৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা বিদেশি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত ও জাতীয় জ্বালানি মজুত বাড়াতে ব্যয় করা হবে। এছাড়া উৎপাদন ও পরিবহন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি সামাল দিতে সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে আরও ১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ব্যবসা খাতে নানা সংস্কারের ঘোষণাও এসেছে। ছোট ব্যবসার জন্য ২০ হাজার ডলারের ইনস্ট্যান্ট অ্যাসেট রাইট-অফ সুবিধা, স্টার্টআপের জন্য কর রিফান্ড এবং বিনিয়োগ সহজ করতে নিয়মকানুন শিথিল করার পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চালমার্স বলেন,
“এটি ১৯৯০-এর দশকের পর সবচেয়ে বড় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা।”
এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতেও বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ বছরে প্রতিরক্ষা বাহিনীতে অতিরিক্ত ৫৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
সন্ত্রাসবাদ ও অনলাইন উগ্রবাদ মোকাবিলায় নতুন কাউন্টার-টেররিজম অনলাইন সেন্টার গঠনে ৬০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তবে বিরোধীরা এই বাজেটের তীব্র সমালোচনা করেছে। বিরোধী দলের অর্থনৈতিক মুখপাত্র টিম উইলসন একে “ভঙ্গ প্রতিশ্রুতি, উচ্চ কর, নিম্ন জীবনমান ও কম আবাসনের বাজেট” বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন,
“এই বাজেট তরুণ অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য সুযোগের সিঁড়ি সরিয়ে নিচ্ছে এবং ভবিষ্যতের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”
বিরোধী দল আরও অভিযোগ করেছে, সরকার অতিরিক্ত ব্যয়ের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বাজেট জবাব বৃহস্পতিবার উপস্থাপন করবেন অ্যাঙ্গাস টেলর।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au