ভারতে লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণ ও রুপার দাম
মেলবোর্ন, ১৩ মে- ভারতে স্বর্ণ ও রুপার আমদানি শুল্ক বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের পর দেশটির বাজারে মূল্যবান এই দুই ধাতুর দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।…
মেলবোর্ন, ১৩ মে- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়াই তার প্রশাসনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ বা সাধারণ মানুষের আর্থিক সংকট তার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে না বলেও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার চীন সফরে রওনা হওয়ার আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। ইরান যুদ্ধ ও চলমান উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ বাড়ছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি মূলত একটি বিষয় নিয়েই চিন্তিত।
তিনি বলেন, “আমি শুধু একটি বিষয় নিয়েই ভাবছি। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া যাবে না। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “আমি কারও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে ভাবছি না। আমি শুধু নিশ্চিত করতে চাই, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।”
তার এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসন কেবল সামরিক ও কৌশলগত বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে, কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের ওপর যে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে, তা যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।
বিশেষ করে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও। দেশটিতে গ্যাসোলিনের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহন ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়ছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত নতুন অর্থনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে এই চাপ আরও বাড়তে পারে।
হোয়াইট হাউসের জনসংযোগ পরিচালক স্টিভেন চং প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, আমেরিকান জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। তার ভাষায়, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তাহলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
এদিকে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দলটির অনেক নেতা মনে করছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এবং এর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ধরে রাখার চাপ, অন্যদিকে দেশের ভেতরে বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় ও জনঅসন্তোষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au