ভারতে লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণ ও রুপার দাম
মেলবোর্ন, ১৩ মে- ভারতে স্বর্ণ ও রুপার আমদানি শুল্ক বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের পর দেশটির বাজারে মূল্যবান এই দুই ধাতুর দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।…
মেলবোর্ন, ১৩ মে- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকার মধ্যেই বহুল আলোচিত চীন সফরে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১২ মে) তিনি বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন ত্যাগ করেন। তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি ১৩ মে থেকে ১৫ মে পর্যন্ত চীনে অবস্থান করবেন। সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানে জড়িত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও একইসঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন হিসাব-নিকাশ তৈরি করেছে।
মূলত এই সফর আরও আগে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রাম্পের বেইজিং সফর পিছিয়ে যায়। ধারণা করা হয়েছিল, যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পরই সফরটি অনুষ্ঠিত হবে। তবে যুদ্ধ এখনো পুরোপুরি থামেনি, বরং ইরান ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই ট্রাম্পের চীন সফর শুরু হওয়ায় কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সফরটি শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বাণিজ্য বিরোধ, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা, তাইওয়ান ইস্যু এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা এশিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চীনবিষয়ক সাবেক শীর্ষ উপদেষ্টা কুর্ট ক্যাম্পবেল ট্রাম্পের এই সফরকে “অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও তাৎপর্যপূর্ণ” বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, “এটি উল্লেখযোগ্য যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ চলমান অবস্থায় চীনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে চীনও এমন পরিস্থিতিতে তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাগত জানাচ্ছে, সেটিও খুবই অস্বাভাবিক।”
বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও ইরান দীর্ঘদিনের কৌশলগত মিত্র। দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, অবকাঠামো ও বাণিজ্য সহযোগিতা রয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বেইজিং তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা ও নৌ অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। এসব বাস্তবতার মধ্যেও ট্রাম্পের সফর বাতিল না হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয়ই সম্পর্কের নাজুক অবস্থাকে আরও অবনতির দিকে যেতে দিতে চাইছে না।
কুর্ট ক্যাম্পবেল বলেন, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের পেছনে দুই দেশেরই গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ জড়িত রয়েছে। তার ভাষায়, “আমার মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যে ভঙ্গুর সম্পর্ক রয়েছে, সেটিকে অন্তত কার্যকর অবস্থায় ধরে রাখার অংশ হিসেবেই ট্রাম্প এই সফরে গেছেন।”
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সফরে বাণিজ্য, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ান পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকট নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া ইরান ইস্যুতেও চীনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই সফর একদিকে যেমন বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে তা যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: এনপিআর
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au