ভারতে লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণ ও রুপার দাম
মেলবোর্ন, ১৩ মে- ভারতে স্বর্ণ ও রুপার আমদানি শুল্ক বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের পর দেশটির বাজারে মূল্যবান এই দুই ধাতুর দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।…
মেলবোর্ন, ১৩ মে- মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে এবার সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে গোপন সামরিক হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। পশ্চিমা দুই কর্মকর্তা ও ইরানের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ইরানের হামলার জবাবে পাল্টা প্রতিশোধমূলক এই হামলা চালায়। তবে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চ মাসের শেষ দিকে সৌদি বিমানবাহিনী ইরানের ভেতরে একাধিক গোপন হামলা চালায়। এটিই প্রথমবারের মতো সৌদি আরব সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে বলে জানা গেল। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের অবস্থানের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, “সৌদি আরবে হামলার জবাব হিসেবেই এই পাল্টা হামলা চালানো হয়।” তবে হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সরাসরি হামলার বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার করেননি। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সুরক্ষার ওপর নির্ভর করে এসেছে। তবে প্রায় ১০ সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়কে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ফলে সৌদি আরব নিজস্ব প্রতিরক্ষা অবস্থান আরও আক্রমণাত্মকভাবে তুলে ধরতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। ছবিঃ সংগৃহীত
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বিমান হামলা শুরু করার পর যুদ্ধ ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ইরান উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের ছয়টি দেশেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এসব হামলায় শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নয়, বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা এবং বেসামরিক অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। একই সঙ্গে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালিয়েছে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব ও আমিরাতের এই পদক্ষেপ দেখাচ্ছে উপসাগরীয় রাজতান্ত্রিক দেশগুলো আর শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে নেই, বরং ইরানের হামলার জবাবে সরাসরি পাল্টা আঘাত হানছে।
তবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কৌশলের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমিরাত তুলনামূলক কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে সৌদি আরব প্রকাশ্যে সংঘাত বাড়াতে চায়নি এবং একই সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগও চালিয়ে গেছে। রিয়াদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল বলে জানা গেছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, “সৌদি আরব সবসময় উত্তেজনা হ্রাস, আত্মসংযম এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।”
ইরানি ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, হামলার পর সৌদি আরব ইরানকে বিষয়টি জানায় এবং এরপর দুই দেশের মধ্যে নিবিড় কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়। একই সঙ্গে আরও কঠোর পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারিও দেয় রিয়াদ। পরে উভয় দেশ উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতায় পৌঁছায়।

সৌদি আরবে ইরানি হামলা। ছবি: এপি
আন্তর্জাতিক সংকটবিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, “পাল্টাপাল্টি হামলার পর উত্তেজনা কমানোর সমঝোতা দুই পক্ষের বাস্তববাদী উপলব্ধিরই বহিঃপ্রকাশ। কারণ, নিয়ন্ত্রণহীন সংঘাতের মূল্য উভয় পক্ষের জন্যই ভয়াবহ হতে পারত।”
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগের সপ্তাহেই এই অনানুষ্ঠানিক উত্তেজনা প্রশমনের প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই দেশই “শত্রুতা বন্ধ, পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং উত্তেজনা বিস্তার রোধে” একমত হয়েছিল।
দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সুন্নি শক্তির নেতৃত্বে থাকা সৌদি আরব এবং শিয়া শক্তির কেন্দ্র ইরান বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতে বিপরীত পক্ষকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। তবে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই সমঝোতার পর ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের যুদ্ধবিরতিও কার্যকর হয়।
যুদ্ধ চলাকালে লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল সচল থাকায় সৌদি আরব তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য কয়েকটি দেশের তুলনায় তারা অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা কম ক্ষতির মুখে পড়েছে।
সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান প্রিন্স তুর্কি আল-ফয়সাল সম্প্রতি এক নিবন্ধে লিখেছেন, “যখন ইরান ও অন্যরা সৌদি আরবকে ধ্বংসের আগুনে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছে, তখন আমাদের নেতৃত্ব জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।”

ইরানের হামলায় সৌদি আরবের বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান ধ্বংস। ছবিঃ সংগৃহীত
মার্চ মাসে সৌদি আরব প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছিল, প্রয়োজন হলে তারা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। এরপর ইরানের সামরিক অ্যাটাশে এবং দূতাবাসের চার কর্মকর্তাকে অবাঞ্ছিত ব্যক্তি ঘোষণা করে রিয়াদ।
রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, মার্চের শেষ সপ্তাহে সৌদি আরবের ওপর ১০৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল। তবে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে তা কমে ২৫টির কিছু বেশি হয়। পশ্চিমা সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধবিরতির আগে সৌদি আরবের দিকে ছোড়া বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ইরান নয়, ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে ছোড়া হয়েছিল।
এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ইরাকি ভূখণ্ড থেকে হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে ইরাকের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল সৌদি আরব।
যুদ্ধবিরতির শুরুর দিকেও উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭ ও ৮ এপ্রিল সৌদি আরব লক্ষ্য করে আরও ৩১টি ড্রোন ও ১৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এতে রিয়াদ আবারও ইরান ও ইরাকের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার চিন্তা করে। একই সময়ে পাকিস্তান সৌদি আরবকে আশ্বস্ত করতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে এবং সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানায়।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au