ভারতে লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণ ও রুপার দাম
মেলবোর্ন, ১৩ মে- ভারতে স্বর্ণ ও রুপার আমদানি শুল্ক বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের পর দেশটির বাজারে মূল্যবান এই দুই ধাতুর দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।…
মেলবোর্ন, ১৩ মে- ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও জমি হস্তান্তর নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এ অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, “সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা বিষয়টিকে সেই দৃষ্টিতেই দেখি।” তবে এ সিদ্ধান্ত ভারত–বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গেও কথা বলেন রণধীর জয়সোয়াল। তিনি বলেন, ভারত দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে নিতে চায় এবং সেই নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে বাংলাদেশে কিছু মহলে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, সে বিষয়ে ভারতের অবস্থান হচ্ছে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।
সীমান্ত অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, ভারতে অবৈধভাবে বসবাসরত প্রায় ২ হাজার ৮৬০ জনের বেশি ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়ে বাংলাদেশকে আগেই অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এখনো বাংলাদেশ এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি ও তিস্তা প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন ওঠে ব্রিফিংয়ে। সম্প্রতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিস্তা উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা চাওয়ার খবর প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থ ও সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।
সীমান্তের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬৪৭ কিলোমিটার এলাকায় ইতোমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। বাকি অংশে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রায় ৬০০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ভারতের আইন অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণ রাজ্য সরকারের বিষয়। আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সময় জমি অধিগ্রহণ শুরু হলেও স্থানীয় বিরোধ ও ক্ষতিপূরণ জটিলতার কারণে কাজ ধীরগতিতে এগোয়। পরে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে দ্রুত জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়।
এরই মধ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সরকার প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয় বলে জানা যায়।
ব্রিফিংয়ে ভারত–পাকিস্তান ও চীন ইস্যুতেও কথা বলেন মুখপাত্র। তিনি বলেন, পহেলগাম হামলার পর পরিচালিত সামরিক অভিযানের সময় চীনের ভূমিকা নিয়ে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা সরকার দেখেছে। তবে এ বিষয়ে অতিরিক্ত মন্তব্য তিনি করেননি।
তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদে সহায়তাকারী নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও দায়িত্বশীল অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা, জমি অধিগ্রহণ এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক সমীকরণ ঘিরে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au