ভারতে লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণ ও রুপার দাম
মেলবোর্ন, ১৩ মে- ভারতে স্বর্ণ ও রুপার আমদানি শুল্ক বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের পর দেশটির বাজারে মূল্যবান এই দুই ধাতুর দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।…
মেলবোর্ন, ১৩ মে- অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে বরফ গলার নতুন এক উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু ওপর থেকে নয়, বরফের নিচের অংশ থেকেও দ্রুত গলতে শুরু করেছে বিশাল বরফের স্তর, যা আগে বৈজ্ঞানিকভাবে অনেকটা কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে ধরা হতো।
অ্যান্টার্কটিকার মূল ভূখণ্ডের চারপাশে সমুদ্রের ওপর ভেসে থাকা বিশাল বরফের স্তরকে বলা হয় আইস শেলফ। এগুলো মূল হিমবাহেরই সম্প্রসারিত অংশ, যা সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। এই বরফের তাকগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক বাধার মতো কাজ করে। এগুলো মূল হিমবাহকে সরাসরি সমুদ্রে গিয়ে মিশে যেতে বাধা দেয় এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলনকে ধরা হয়। বর্তমানে অনুমান করা হচ্ছে, এই অঞ্চলের বরফ গলার কারণে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৩ মিলিমিটার করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। তবে নতুন গবেষণা বলছে, এই হার আরও দ্রুত হতে পারে, কারণ বরফ গলনের প্রক্রিয়া এখন আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও দ্রুতগতির।
নরওয়ের আইসি থ্রি পোলার রিসার্চ হাব এবং আকভাপ্লান-নিভা সংস্থার গবেষক টোর হ্যাটারম্যান ও কিন ঝোউয়ের নেতৃত্বে একটি দল এই গবেষণা পরিচালনা করে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান জার্নাল নেচার কমিউনিকেশনসে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে থাকা অংশ, বিশেষ করে সমুদ্রের সংস্পর্শে থাকা নিমজ্জিত স্তরগুলো, অনেক দ্রুত গলছে। এই বরফের নিচে থাকে ছোট-বড় অনেক জলপ্রবাহ পথ বা চ্যানেল, যার মাধ্যমে সমুদ্রের উষ্ণ পানি প্রবেশ করে বরফকে গলিয়ে দেয়। এসব চ্যানেলে আটকে থাকা উষ্ণ পানি বরফ গলার প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করে।
গবেষকরা পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার ফিম্বুলিসেন আইস শেলফে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ চালান। এই এলাকায় বরফের নিচে গভীর ও জটিল প্রণালী রয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, উষ্ণ সমুদ্রের পানি ওই প্রণালীতে আটকে পড়ে এবং সেখানে বরফ গলার হার অনেক ক্ষেত্রে প্রায় দশ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
এটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ পূর্ব অ্যান্টার্কটিকাকে এতদিন তুলনামূলক স্থিতিশীল ও কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু নতুন তথ্য বলছে, এখানেও দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে এবং বরফের স্থিতিশীলতা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
গবেষণার প্রধান টোর হ্যাটারম্যান বলেন, সামান্য পরিমাণ উষ্ণ পানিও বরফ গলার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে বরফের নিচের প্রণালীগুলো ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে এবং একসময় পুরো আইস শেলফ দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে মূল হিমবাহকে আটকে রাখার ক্ষমতা কমে যায়।
গবেষকরা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বরফের নিচের অংশের একটি বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি করেন। এতে দেখা যায় কোথায় গভীর গহ্বর রয়েছে, কোথায় পানির প্রবাহ বেশি এবং কোন অংশগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কয়েকশো দিন মাঠপর্যায়ে কাজ করে তারা এই তথ্য সংগ্রহ করেন।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে বরফের তাকগুলো ধীরে ধীরে আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। এতে বড় আকারের বরফ খণ্ড সমুদ্রে ভেঙে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আরও দ্রুত বাড়তে পারে।
তারা মনে করছেন, অ্যান্টার্কটিকার আইস শেলফ নিয়ে আরও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। কারণ, এসব পরিবর্তনের সঠিক গতি ও ভবিষ্যৎ প্রভাব এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি। তবে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে, পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অ্যান্টার্কটিকা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠছে, যার প্রভাব বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায় সরাসরি পড়বে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au