নেতৃত্ব সংকটে ব্রিটিশ সরকারের হতে পারে যে পাঁচ পরিণতি । ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৭ মে- ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার–এর নেতৃত্ব ঘিরে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দলীয় বিদ্রোহ, মন্ত্রীদের পদত্যাগ এবং জনপ্রিয়তা হ্রাসের মধ্যে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংকট ব্রিটিশ রাজনীতিকে নতুন এক মোড়ে দাঁড় করিয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহই নির্ধারণ করবে স্টারমার নেতৃত্বে টিকে থাকবেন, নাকি লেবার পার্টি নতুন নেতার পথে হাঁটবে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্টারমারের সামনে এখন অন্তত পাঁচটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিণতি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, তিনি নিজেই পদত্যাগ করবেন কি না। চলতি সপ্তাহে একাধিক এমপির বিদ্রোহ এবং মন্ত্রীদের পদত্যাগের পর তার ওপর চাপ অনেক বেড়েছে। তবে প্রকাশ্যে স্টারমার জানিয়েছেন, তিনি দায়িত্ব ছেড়ে পালিয়ে যাবেন না এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে চান।
এদিকে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম–এর নাম সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র বার্নহ্যাম একটি উপনির্বাচনের মাধ্যমে পার্লামেন্টে ফিরে এসে স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। ইতোমধ্যে ওই আসনের লেবার এমপি পদত্যাগ করেছেন এবং দলীয় অনেক সদস্য চাইছেন, বার্নহ্যাম যেন জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে আসেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহ্যাম যদি উপনির্বাচনে জয়ী হন, তাহলে তিনি দাবি করতে পারবেন যে, রিফর্ম ইউকের উত্থান ঠেকিয়ে আবারও লেবারকে জনপ্রিয় করে তোলার সক্ষমতা তার রয়েছে। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবারের একাধিক শক্ত ঘাঁটিতে ধাক্কা দিয়েছে নাইজেল ফারাজ–এর দল রিফর্ম ইউকে। ফলে বার্নহ্যামের জয়ের সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমনি পরাজয়ের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। তিনি নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও তিনি সরাসরি স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দেননি, তবুও তার পদত্যাগ লেবার পার্টির ভেতরের চাপকে আরও স্পষ্ট করেছে।
একই সঙ্গে বর্তমান উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার–এর নামও সম্ভাব্য নেতৃত্বের দৌড়ে উঠে এসেছে। কর-সংক্রান্ত তদন্ত শেষ হওয়ার পর তিনি ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বিষয়ে দরজা খোলা রেখেছেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ করতে হলে লেবার পার্লামেন্টারি পার্টির অন্তত ২০ শতাংশ এমপির সমর্থন প্রয়োজন, যা বর্তমানে প্রায় ৮১ জন এমপির সমান। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো নেতৃত্ব নির্বাচন শুরু হয়নি। ফলে পরিস্থিতি অনিশ্চিত ও জটিল রয়ে গেছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, বার্নহ্যাম যদি উপনির্বাচনে জয় পান, তাহলে স্টারমার বড় ধরনের নেতৃত্ব সংকটে পড়তে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তও নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে লেবার পার্টিতে পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে বার্নহ্যাম, ওয়েস স্ট্রিটিং, অ্যাঞ্জেলা রেইনারসহ আরও কয়েকজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
তবে বার্নহ্যাম যদি হেরে যান, তাহলে স্টারমারের অবস্থান সাময়িকভাবে শক্ত হতে পারে। কারণ তখন তার বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিকল্প নেতৃত্ব সামনে আসবে না। কিন্তু দলীয় সংকট এবং জনসমর্থন কমে যাওয়ার চাপ থেকেই যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রিফর্ম ইউকের দ্রুত উত্থান এখন ব্রিটিশ রাজনীতির ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে। আর সেই চাপেই লেবার পার্টির ভেতরের বিভাজন ও নেতৃত্ব সংকট আরও গভীর হয়ে উঠছে।