৬ ঘণ্টার চেষ্টায় কঠোর নিরাপত্তায় অভিযুক্তকে নিয়ে গেল পুলিশ
মেলবোর্ন, ২২ মে- চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে…
মেলবোর্ন, ২১ মে- ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে সাতক্ষীরার বল্লী মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকারকে মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে উত্তেজিত জনতা। পরে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনাটি ঘিরে সামনে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের অভিযোগও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মে নবম শ্রেণির ক্লাসে ধর্মীয় বিষয়ে মন্তব্য করেন শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকার। কয়েকজন শিক্ষার্থী বিষয়টি বাইরে জানালে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকজন বহিরাগত যুবক বিদ্যালয়ে ঢুকে শিক্ষক মিলনায়তনে তাঁকে মারধর করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্য শিক্ষকেরা গৌরাঙ্গ সরকারকে সবার সামনে ক্ষমা চাইতে বলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মাইকে নিজের বক্তব্য ব্যাখ্যা করতে গেলে আবারও উত্তেজিত জনতা তাঁকে মারধর শুরু করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে আব্দুর রউফ নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। বুধবার ওই মামলায় গৌরাঙ্গ সরকারকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
তবে ঘটনাটিকে ঘিরে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের অভিযোগও উঠেছে। কয়েকজন শিক্ষক ও অভিভাবকের দাবি, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও অপর এক শিক্ষকের নেতৃত্বে বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের বিরোধ চলছিল। সেই দ্বন্দ্বের জেরেই ঘটনাটি বড় আকার ধারণ করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, অংকের ক্লাস শেষে ভারতের পশ্চিমঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মুসলিমদের কোরবানি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গৌরাঙ্গ স্যার বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে তাঁর বক্তব্য বিকৃতভাবে বাইরে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ক্রীড়া শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন,’সকালে কয়েকজন বহিরাগত এসে স্যারকে চড়-থাপ্পড় মারেন। পরে তাঁকে কান ধরে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। কিন্তু তিনি প্রকৃত ঘটনা বলতে গেলে আবারও হামলা হয়।’
আদালত চত্বরে অভিযুক্ত শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকার দাবি করেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের কোরবানি বন্ধের সমালোচনা করেছিলাম। কিন্তু আমার বক্তব্য ঘুরিয়ে ছড়ানো হয়েছে। শিক্ষকদের দলাদলির বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে আমাকে।”
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামিলুর রহমান বলেন, “ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্যে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।”
সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মো. মাসুদুর রহমান জানান, “ধর্ম ও ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে হেয় করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au