ভারত-বাংলাদেশের পতাকা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২১ মে- গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। এ অবস্থায় চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে আবারও আলোচনায় বসেছে বাংলাদেশ ও ভারত। এই প্রেক্ষাপটে কলকাতায় শুরু হয়েছে দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের ৯০তম বৈঠক। বৈঠকের আগে ফরাক্কা ব্যারাজ এলাকায় গঙ্গার পানি প্রবাহ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) ফরাক্কার বেনিয়া গ্রামের ঘাটপাড়া মেলা গ্রাউন্ড সংলগ্ন এলাকায় গঙ্গার মূল স্রোতে ফরাক্কা ব্যারাজের পানি প্রবাহ পর্যালোচনা করা হয়। একই সময়ে ভাগীরথী ও পদ্মা নদীর জলপ্রবাহও বিভিন্ন অংশে পরিমাপ করা হয়। পরে ফিডার ক্যানাল এলাকায় গিয়ে ব্যারাজ সংলগ্ন অংশের পানিপ্রবাহ পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করেন প্রতিনিধিদল।
তবে এই যৌথ পর্যবেক্ষণে কী ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ভারতের পক্ষ থেকে এটিকে নিয়মিত বা রুটিন পর্যবেক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষের আগে এমন পর্যবেক্ষণকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই কূটনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) থেকে কলকাতায় শুরু হচ্ছে যৌথ নদী কমিশনের মূল বৈঠক, যা চলবে শনিবার পর্যন্ত। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মহম্মদ আনোয়ার কাদীর। ভারতের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবসহ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

ফারাক্কা ব্যারাজ ও সংলগ্ন ফিডার ক্যানাল। ছবিঃ সংগৃহীত
১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। সেই কারণে এবারের বৈঠককে দুই দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী ফরাক্কা পয়েন্টে নদীর পানিপ্রবাহের পরিমাণের ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টন নির্ধারিত হয়।
তবে নতুন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের অবস্থানে এখনো স্পষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শুধু ফরাক্কা পয়েন্ট নয়, তার আগের অংশের পুরো গঙ্গা প্রবাহের হিসাবও পানি বণ্টনে বিবেচনায় নেওয়া উচিত। অন্যদিকে ভারতের অবস্থান হলো, গত কয়েক দশকে নদীর প্রবাহ ও ব্যবহারের ধরনে পরিবর্তন এসেছে, তাই বর্তমান বাস্তবতাকে ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গঙ্গা চুক্তির নবায়ন শুধু পানি বণ্টনের বিষয় নয়, এটি বাংলাদেশ ও ভারতের সামগ্রিক সম্পর্কের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু। এই চুক্তিতে অগ্রগতি হলে তিস্তা নদীসহ অন্যান্য অমীমাংসিত নদী ইস্যুতেও আলোচনার পথ আরও সহজ হতে পারে।
এ অবস্থায় কলকাতার এই বৈঠককে ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে এখন মূল প্রশ্ন হচ্ছে, গঙ্গার পানি বণ্টনে কি নতুন কোনো সমঝোতার দিক উন্মোচিত হবে, নাকি দুই দেশের অবস্থানের ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
সূত্রঃ বার্তা২৪