নতুন বাজেটের পর অস্ট্রেলিয়ার আবাসন খাতে বড় ধসের আশঙ্কা
মেলবোর্ন, ২১ মে- অস্ট্রেলিয়ার আবাসন খাতে আগামী কয়েক বছরে বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন একাধিক অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষক। বিশেষ করে ফেডারেল…
মেলবোর্ন, ২১ মে- প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র আলোচনা ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ ও সমালোচনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং ডেমোক্র্যাটদের জন্য অপ্রত্যাশিত সুযোগ এনে দিতে পারে।
এই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসন। বর্তমানে আসনটি দখলে রেখেছেন রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নিন। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই আসনের ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ, এই নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে। ফলে এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
চলতি সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি আর জন কর্নিনকে সমর্থন করছেন না। ট্রাম্পের অভিযোগ, কর্নিন তার প্রতি যথেষ্ট অনুগত ছিলেন না। এর পরিবর্তে তিনি রিপাবলিকান ভোটারদের টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের পক্ষে ভোট দিতে আহ্বান জানান।
তবে কেন প্যাক্সটনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত অনৈতিক আচরণের নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে রিপাবলিকান পার্টির একটি অংশও তাকে নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের সমর্থনের ফলে প্যাক্সটনের অবস্থান শক্তিশালী হলেও একই সঙ্গে এটি রিপাবলিকানদের জন্য ঝুঁকিও তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ডেমোক্র্যাটদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা খুব কম ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফক্স নিউজের প্রধান রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্রিট হিউম বলেন, এই আসন এখন অন্তত কিছুটা হলেও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তার মতে, টেক্সাস এখনও রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হলেও কেন প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে থাকা নানা অভিযোগ এবং তার সীমিত গ্রহণযোগ্যতা নির্বাচনের সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে।
ব্রিট হিউম আরও বলেন, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো দক্ষ বক্তা এবং তিনি ভোটারদের একটি অংশকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হচ্ছেন। তার ভাষায়, জন কর্নিন প্রার্থী থাকলে টালারিকোর সুযোগ কম থাকত, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি বাস্তব প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন।
সিএনএনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক হ্যারি এন্টেনও একই ধরনের মূল্যায়ন দিয়েছেন। তিনি সাম্প্রতিক জনমত জরিপ বিশ্লেষণ করে বলেন, প্যাক্সটন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী টালারিকোর বিরুদ্ধে আগের রিপাবলিকান প্রার্থীদের তুলনায় দুর্বল অবস্থানে রয়েছেন।
তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেন, সে সময় রিপাবলিকান প্রার্থী টেড ক্রুজ অল্প ব্যবধানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বিটো ও’রর্ককে পরাজিত করেছিলেন। ওই নির্বাচনেই প্রথমবারের মতো টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বড় আলোচনা শুরু হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সাস বহু বছর ধরেই ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লক্ষ্য। অঙ্গরাজ্যটিতে ক্রমবর্ধমান হিস্পানিক জনগোষ্ঠী এবং ডালাস, হিউস্টনসহ বড় শহরগুলোর প্রগতিশীল ভোটারদের কারণে ডেমোক্র্যাটরা সেখানে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। যদিও এখন পর্যন্ত তারা সফল হতে পারেনি।
বর্তমানে জেমস টালারিকোকে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনাময় মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং প্রার্থীকে ঘিরে বিতর্ক নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সাসের এই সিনেট আসনের ফলাফল শুধু একটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন নয়, বরং পুরো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, এই আসনের ফলাফল কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অবস্থানকেও প্রভাবিত করতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au