৬ ঘণ্টার চেষ্টায় কঠোর নিরাপত্তায় অভিযুক্তকে নিয়ে গেল পুলিশ
মেলবোর্ন, ২২ মে- চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে…
মেলবোর্ন, ২১ মে- ইহুদিবিদ্বেষ ও সামাজিক সম্প্রীতি বিষয়ে গঠিত রয়্যাল কমিশনে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল জানিয়েছে, তারা ইহুদি সম্প্রদায়সহ অন্যান্য ধর্মীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে “গঠনমূলকভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”। একই সঙ্গে সংগঠনটি বলেছে, ইহুদিবিদ্বেষ এবং ইসরায়েলের সমালোচনাকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা উচিত।
গত ১৮ মে জমা দেওয়া ২১ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল বা এএনআইসি ইহুদিবিদ্বেষের কঠোর নিন্দা জানায়। সংগঠনটি ইহুদিবিদ্বেষের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছে, শুধুমাত্র ইহুদি হওয়ার কারণে ইহুদিদের হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, বৈষম্য করা বা তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার পক্ষে অবস্থান নেওয়াই ইহুদিবিদ্বেষ।
প্রতিবেদনে গত বছর সিডনির বন্ডাই এলাকায় সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলারও নিন্দা জানানো হয়। এ ঘটনায় ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে সংগঠনটি একে “জঘন্য অপরাধ” হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তবে ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আন্তধর্মীয় সংলাপ ভেঙে পড়ে এবং তা আর পুনরায় শুরু হয়নি। অস্ট্রেলিয়ান জিউইশ নিউজ জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করে এমন বিভিন্ন বিষয়ে মতামত জানতে একাধিকবার ইমামস কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে এএনআইসি দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপগুলোতে একটি সম্প্রদায়কে অন্যদের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের ক্রাইমস অ্যাক্টের ৯৩জেড ধারার সংশোধনী এবং ফেডারেল সরকারের “কমব্যাটিং অ্যান্টিসেমিটিজম, হেইট অ্যান্ড এক্সট্রিমিজম অ্যাক্ট ২০২৬”-এর সমালোচনা করে বলেছে, এসব আইনে বর্ণ ও জাতিগত-ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর জোর দেওয়া হলেও ধর্মীয় বিদ্বেষ, বিশেষ করে ইসলামবিদ্বেষের বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।
এ ছাড়া ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিনসের নির্দেশে সিডনি অপেরা হাউসকে ইসরায়েলের পতাকার রঙে আলোকিত করার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেছে এএনআইসি। তাদের দাবি, অন্যান্য সম্প্রদায়ের ট্র্যাজেডির সময় এ ধরনের প্রতীকী সংহতি দেখানো হয়নি।
প্রতিবেদনে ইন্টারন্যাশনাল হলোকাস্ট রিমেমব্রেন্স অ্যালায়েন্সের ইহুদিবিদ্বেষের সংজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, কিছু ইহুদি গবেষক ও সংগঠনের মতে, এই সংজ্ঞার প্রয়োগের ফলে বৈধ রাজনৈতিক সমালোচনাকেও ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে চিহ্নিত করার ঝুঁকি তৈরি হয়।
এ প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার একটি ইহুদি সংগঠন “জিউইশ কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়া”-এর বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়। সংগঠনটির মতে, “ইহুদিবিদ্বেষ হলো ইহুদিদের প্রতি ঘৃণা। ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা বা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া ইহুদিবিদ্বেষ নয়।”
প্রতিবেদনে সাংবাদিক অ্যান্টনি লোয়েনস্টেইন, হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া শিশু ডা. গ্যাবর মাতে, ইসরায়েলি ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ইলান পাপে এবং লেখক নাওমি ক্লেইনের বক্তব্যও উদ্ধৃত করা হয়েছে। তাদের বক্তব্যের আলোকে এএনআইসি বলেছে, ইহুদি পরিচয়কে সরাসরি ইসরায়েলি রাষ্ট্রনীতির সঙ্গে এক করে দেখলে সেটিও ক্ষতিকর ধারণা ও নেতিবাচক স্টেরিওটাইপকে শক্তিশালী করতে পারে।
সবশেষে সংগঠনটি সুপারিশ করেছে, ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলার উদ্যোগে যেন ইহুদি জনগণের প্রতি বিদ্বেষ এবং কোনো সরকার বা জায়নবাদসহ রাজনৈতিক মতাদর্শের সমালোচনার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখা হয়।
সূত্রঃ অস্ট্রেলিয়ান জুইস নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au