গ্রিন কার্ড নীতি ।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩১ মে- মার্কিন গ্রিন কার্ড নীতিতে বিতর্কিত অবস্থান থেকে আংশিক সরে এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন ব্যাখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনকারী সব অভিবাসীকে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে অপেক্ষা করতে হবে না। কেবল নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে ডিএইচএসের এক মুখপাত্র বলেন, গত সপ্তাহে যে নির্দেশনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছিল, সেটি কোনো সার্বজনীন নীতি পরিবর্তন নয়। বরং বিশেষ পরিস্থিতিতে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা পুনর্ব্যক্ত করতেই ওই নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল।
গ্রিন কার্ড হলো এমন একটি সরকারি পরিচয়পত্র, যা কোনো বিদেশি নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার অনুমতি দেয়। যদিও এর মাধ্যমে সরাসরি মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না, তবে ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের পথ সুগম হয়।
এর আগে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) এমন ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে গ্রিন কার্ডের আবেদন করবেন, তাদের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নিজ দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। এই ঘোষণার পরই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা, অভিবাসন আইনজীবী এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র সমালোচনা শুরু করে।
সমালোচকদের মতে, এমন নীতি কার্যকর হলে হাজার হাজার পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত এবং আবেদনকারীদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতো। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কর্মরত অনেক অভিবাসীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ত।
এ অবস্থায় নতুন ব্যাখ্যায় ডিএইচএস জানিয়েছে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থান করা ব্যক্তি কিংবা সরকারি সহায়তার ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে দেশে ফেরার নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। তবে এটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয় এবং প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়ন করবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অভিবাসন আইনজীবীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইতোমধ্যে কিছু আবেদনকারীকে সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে কেন তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন করছেন এবং নিজ দেশ থেকে আবেদন করতে তাদের কোনো বাধা রয়েছে কি না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতের নেতারা নতুন নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, বিদেশি দক্ষ কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে অস্থায়ী কর্মভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত অনেক পেশাজীবী গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে দেশটিতে বসবাসের পরিকল্পনা করে থাকেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাপক সমালোচনা ও রাজনৈতিক চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান পরিবর্তন অভিবাসন নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হতে পারে।
সুত্রঃ দ্য নিউইয়র্ক টাইমস