বিচ্ছেদের জল্পনায় জল! দীপাবলির পার্টিতে হাতে হাত রেখে হাজির অভিষেক-ঐশ্বরিয়া
দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে নানা জল্পনা বলিউডে। কখনও বিচ্ছেদের গুঞ্জন, কখনও পারিবারিক দূরত্বের খবর। তবে সব জল্পনাকে পিছনে ফেলে আবারও একসঙ্গে দেখা গেল…
ওটিএন বাংলা ডেস্ক :
ছিনতাইকারী সন্দেহে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা দুই পুলিশ সদস্য ও পুলিশের এক সোর্সকে মারধর করে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেছেন। পরে প্রক্টর কার্যালয়ে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় পুলিশ লাইন ও সরকারি মহিলা কলেজসংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিচয়ে দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশির চেষ্টা থেকে ঘটনার সূত্রপাত।
ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যরা হলেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা, কনস্টেবল মো. হানিফ এবং পুলিশের সোর্স জাহিদ।
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, টিউশনি শেষে পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম ও অর্প বাস ধরতে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁদের পথরোধ করে তল্লাশি শুরু করেন।
শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে ওই ব্যক্তিরা তা দেখাতে পারেননি। তাঁদের অভিযোগ, পরিচয়পত্রের বদলে ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখানো হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়।
একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হন। তাঁদের সন্দেহ হয়, ওই তিন ব্যক্তি ছিনতাইকারী বা ভুয়া পুলিশ হতে পারেন। পরে তাঁদের মারধর করে টেনে-হিঁচড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে তোলা হয়। বাসে করে তাঁদের ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়া হলে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়।
এএসআই শ্যামল সাহা বলেন, তাঁরা দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দেওয়ার পর তাঁদের ছেড়ে দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। নিজেদের কাছে পরিচয়পত্র না থাকায় ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখানো হয়েছিল। দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু তা না শুনেই তাঁদের তুলে নেওয়া হয়।
শিক্ষার্থী সিফাত হোসেন সিয়ামের ভাষ্য, তাঁদের পথরোধ করে তল্লাশি শুরু করা হয়। পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে সেটি দেখানো হয়নি। বরং তাঁদের পকেটে হাত দেওয়া এবং কলার ধরে টানার ঘটনা ঘটে। পরে সন্দেহ হওয়ায় ওই তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, পুলিশ সদস্যদের কাছে পরিচয়পত্র ছিল না। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদেরও কাউকে জোর করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা উচিত হয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা প্রক্টরিয়াল বডিকে জানানো যেত। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সমাধান করা হয়েছে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, ঘটনাস্থল থেকেই থানায় বা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি সমাধান করা যেত। পুলিশ সদস্যদের বাসে করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মব কালচার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au