শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে বাংলাদেশে ফের ক্ষমতার পালাবদলের আশঙ্কা কতটা?
বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে আবারও রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে নর্থইস্ট নিউজের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।…
পাপুয়া নিউগিনিতে (পিএনজি) উদ্ধার হওয়া ৩২ কেজি ওজনের একটি সন্দেহজনক বস্তু ঘিরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক বাগ্যুদ্ধ। চীনের তৈরি বলে ধারণা করা বস্তুটিকে বেইজিং ‘গোলার আকৃতির নিরীহ মদের বোতল’ বলে দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য, এটি আসলে একটি অবিস্ফোরিত শক্তিশালী কামানের গোলা।
গত সপ্তাহে পাপুয়া নিউগিনির রাজধানী পোর্ট মোরেসবির একটি নির্মাণাধীন স্থাপনা থেকে বস্তুটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চার চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ।
ঘটনার পর পোর্ট মোরেসবিতে অবস্থিত চীনা দূতাবাস ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, গোলার মতো দেখতে বস্তুটি আসলে একটি মদের বোতল। এটি থেকে কোনো ঝুঁকি বা বিপদের আশঙ্কা নেই।
চীনের কঠোর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের কথা উল্লেখ করে দূতাবাস আরও দাবি করে, দেশটি থেকে অবৈধভাবে সামরিক গ্রেডের কামানের গোলা পাচার হওয়া কার্যত অসম্ভব।
তবে চীনের এ দাবির সঙ্গে একমত নয় অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি। তাদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া বস্তুটি বেইজিংয়ে তৈরি ১৩০ মিলিমিটারের ‘টাইপ ৫৯’ কামানের গোলা। এতে রাসায়নিক বিস্ফোরক ও ফিউজ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এবিসি আরও জানায়, অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া একটি এক্স-রে মেশিন ব্যবহার করে বস্তুটি পরীক্ষা করে এর পরিচয় নিশ্চিত করেছে পাপুয়া নিউগিনির পুলিশ।
এদিকে বৃহস্পতিবার পোর্ট মোরেসবিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানায়, তারা পাপুয়া নিউগিনির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছে। প্রকাশ্যে আসা তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত হয়েছে, উদ্ধার হওয়া বস্তুটি একটি অবিস্ফোরিত কামানের গোলা, কোনো মদের বোতল নয়।
মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, বিষয়টি জননিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুতর। পাপুয়া নিউগিনির জনগণের সঠিক তথ্য জানার পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাপুয়া নিউগিনির পুলিশ ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, দেশটির জনগণ, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ওয়াশিংটন সব সময় পাশে থাকবে।
অন্যদিকে চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, স্থানীয় পুলিশকে তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে তারা। এ বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে বেইজিং।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাস্যরস
চীনের ‘মদের বোতল’ দাবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। ফেসবুকে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘৩২ কেজি ওজনের মদের বোতল দুনিয়াতে আর কোথায় আছে?’
আরেকজন লিখেছেন, ‘আমার জীবনে দেখা এটিই সবচেয়ে বেশি বিস্ফোরক মদের বোতল। চীনা সরকারের মিথ্যা বলার দক্ষতা আরও বাড়ানো উচিত। এটি একদম কাঁচা হাতের কাজ হয়েছে।’
এমনকি চীনের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফোরামেও এ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। সেখানে একজন লিখেছেন, ‘দেশের মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার পর চীন এখন বিদেশিদেরও বোকা বানাতে চায়।’
প্রশান্ত মহাসাগরে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপট
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই নতুন এ বিতর্ক সামনে এল।
গত মাসে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক কোনো ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ নয়। বরং এটি পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ‘দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা’।
গত সেপ্টেম্বরে চীন ও পাপুয়া নিউগিনি কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন করে। এর কয়েক মাস আগে তাইওয়ানে অবস্থিত নিজেদের অর্থনৈতিক কার্যালয় বন্ধ করে দেয় পাপুয়া নিউগিনি। দেশটির এ পদক্ষেপের প্রশংসা করে বেইজিং জানায়, পারস্পরিক স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তারা পাপুয়া নিউগিনির পাশে থাকতে প্রস্তুত।
চীন স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে। প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হলেও দ্বীপটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au