৩২ কেজির ‘কামানের গোলা’ নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাগ্যুদ্ধ, বেইজিংয়ের দাবি মদের বোতল
পাপুয়া নিউগিনিতে (পিএনজি) উদ্ধার হওয়া ৩২ কেজি ওজনের একটি সন্দেহজনক বস্তু ঘিরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক বাগ্যুদ্ধ। চীনের তৈরি বলে ধারণা করা…
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয়ের পর দেশটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে মার্কিন শেয়ারবাজার। এক দিনেই বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এই ধসের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য শেয়ারবাজারেও।
আজ শুক্রবার লেনদেন শুরুর পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারসূচক কেওএসপিআই প্রায় ৯ শতাংশ কমে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটির প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জে ২০ মিনিটের জন্য লেনদেন বন্ধ রাখতে হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতনির্ভর সূচক নাসডাকের পতন হয় ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ। গত ৬ অক্টোবর রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর সূচকটি প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর থেকে এক দিনে নাসডাকের এত বড় পতন আর দেখা যায়নি।
শুধু নাসডাক নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য প্রধান সূচকগুলোও বড় দরপতনের মুখে পড়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও ডাও জোনস সূচকও ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর এক দিনে সর্বোচ্চ পতনের রেকর্ড করেছে।
অথচ এর আগের দিন বুধবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর মার্কিন শেয়ারবাজারে বড় উত্থান দেখা গিয়েছিল। সেদিন ডাও জোনস সূচক বেড়েছিল ১ হাজার ৫৬৯ পয়েন্ট। নাসডাকের উত্থান হয়েছিল ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। কিন্তু পরদিনই চিত্র পাল্টে যায়। বৃহস্পতিবার ডাও জোনস সূচক কমে যায় ১ হাজার ৮৩৩ পয়েন্ট।
এআই খাতে বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয় এআই খাতের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশেষ করে টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনাহোসের জয় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এআই প্রযুক্তির বিকাশে টেক্সাস গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। গুগল, মেটা, ওরাকল ও ওপেনএআইয়ের মতো প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান সেখানে তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। তবে নির্বাচনী প্রচারে জিনা হিনাহোসে অঙ্গরাজ্যে সাময়িকভাবে নতুন তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ রাখা এবং এ খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কিছু করছাড় প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
টেক্সাসের মতো যেসব অঙ্গরাজ্যে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে বড় বিনিয়োগ করছে, সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয় এআই অবকাঠামো খাতের সম্প্রসারণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা চিপ নির্মাতা এবং তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন।
বুধবার প্রধান সূচকগুলোতে উত্থান দেখা গেলেও সেমিকন্ডাক্টর চিপ নির্মাতা ও এআই তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে তখন থেকেই দরপতন শুরু হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই বিক্রির চাপ আরও বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে পুরো প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজারে।
এনভিডিয়া-টেসলার শেয়ারে বড় পতন
বৃহস্পতিবার প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। এআই চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম কমেছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। সেমিকন্ডাক্টর চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি সূচক কমেছে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রায় সাড়ে ছয় বছরের মধ্যে এক দিনে সূচকটির এত বড় পতন আর হয়নি।
এ ছাড়া ইলন মাস্কের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারের দাম কমেছে ১১ শতাংশ। তাঁর মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারের দামও কমেছে ৯ শতাংশ।
প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে গঠিত নাসডাক-১০০ সূচকও বৃহস্পতিবার ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ কমেছে। ২০২০ সালের মার্চে করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর থেকে এক দিনে সূচকটির এত বড় পতন আর দেখা যায়নি।
এভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এআই ও প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এক দিনের ব্যবধানে দেশটির শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারেও ছড়িয়ে পড়েছে সেই উদ্বেগের প্রভাব।
সূত্র: সিএনএন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au