আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে নবজাতকসহ ৩ লাশ উদ্ধার
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি তালাবদ্ধ ভাড়া বাসা থেকে নবজাতকসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাতে মধ্য জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর চারতলা বাড়ির…
মেলবোর্ন, ১ জুন- ক্যানসার চিকিৎসায় বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে নতুন একটি পরীক্ষামূলক ইনজেকশন। আন্তর্জাতিক এক ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, ‘অ্যামিভান্টাম্যাব’ নামের এই ওষুধ কিছু রোগীর ক্ষেত্রে টিউমার সম্পূর্ণ নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, প্রচলিত চিকিৎসায় সাড়া না দেওয়া রোগীদের জন্য এটি নতুন আশার দ্বার খুলে দিতে পারে।
বিশ্বের ১১টি দেশে পরিচালিত গবেষণায় এমন রোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাদের মাথা ও গলার ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল অথবা চিকিৎসার পর পুনরায় ফিরে এসেছিল। এসব রোগীর অনেকেই কেমোথেরাপি ও রোগপ্রতিরোধভিত্তিক চিকিৎসায় কোনো সুফল পাচ্ছিলেন না।
গবেষণায় অংশ নেওয়া ১০২ জন রোগীর মধ্যে ৪৩ জনের টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয়ে যায় অথবা সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়। এর মধ্যে ২৮ জনের টিউমারের আকার অনেক কমে আসে এবং ১৫ জন রোগীর ক্ষেত্রে টিউমার পুরোপুরি নির্মূল হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।
লন্ডনের ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের জৈবিক ক্যানসার থেরাপি বিভাগের অধ্যাপক কেভিন হ্যারিংটন বলেন, যেসব রোগীর ক্যানসার কেমোথেরাপি ও রোগপ্রতিরোধভিত্তিক চিকিৎসা উভয়ের প্রতিই প্রতিরোধী হয়ে উঠেছিল, তাদের মধ্যে এমন ফলাফল অত্যন্ত বিরল এবং আশাব্যঞ্জক। তার মতে, সীমিত চিকিৎসা বিকল্প থাকা রোগীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
গবেষণার ফলাফল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্যানসারবিষয়ক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে উপস্থাপন করা হচ্ছে। গবেষকদের মতে, অ্যামিভান্টাম্যাব তিনটি ভিন্ন উপায়ে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে কাজ করে। এটি টিউমারের বৃদ্ধিতে সহায়ক একটি প্রোটিনকে বাধা দেয়, ক্যানসার কোষের চিকিৎসা প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ করে এবং একই সঙ্গে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে টিউমারের বিরুদ্ধে সক্রিয় করে তোলে।
ওষুধটি তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন। বর্তমানে ফুসফুস, বৃহদান্ত্র, মস্তিষ্ক ও পাকস্থলীর ক্যানসারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারে এর কার্যকারিতা যাচাই করতে প্রায় ৬০টি গবেষণা চলমান রয়েছে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া ৫৬ বছর বয়সী কার্ল ওয়ালশ জানান, ২০২৪ সালে তার জিহ্বার ক্যানসার ধরা পড়ে। প্রচলিত চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি এই পরীক্ষামূলক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা শুরুর আগে ঠিকমতো কথা বলতে পারতেন না, খাবার খেতেও কষ্ট হতো। এখন ফোলাভাব ও ব্যথা অনেক কমে গেছে এবং তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন।
গবেষকদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, অধিকাংশ ক্যানসার চিকিৎসার মতো দীর্ঘ সময় ধরে শিরায় ওষুধ প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না। অ্যামিভান্টাম্যাব ত্বকের নিচে ছোট একটি ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রতি তিন সপ্তাহে একবার দেওয়া হয়, যা রোগীদের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ ও আরামদায়ক।
গবেষণায় দেখা গেছে, ওষুধটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ছিল। ১০ জনে একজনেরও কম রোগী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে চিকিৎসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।
ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী ক্রিস্টিয়ান হেলিন বলেন, সীমিত চিকিৎসা সুযোগ থাকা রোগীদের জন্য এই গবেষণা বাস্তব পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তার মতে, কঠিন ধরনের ক্যানসারের বিরুদ্ধে এমন সাফল্য ভবিষ্যতের চিকিৎসাবিজ্ঞানে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, ওষুধটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। আরও বিস্তৃত গবেষণা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই এটি সাধারণ রোগীদের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au