ব্রাজিলে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মার্কিন সংগীতশিল্পী অলিভার ট্রি নিহত
মেলবোর্ন, ১৫ জুন- ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে দুটি হেলিকপ্টারের মধ্য আকাশে সংঘর্ষের ঘটনায় জনপ্রিয় মার্কিন পপ সংগীতশিল্পী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তারকা অলিভার ট্রি নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ…
মেলবোর্ন, ১৫ জুন- বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ঢাকা–বেইজিং সম্পর্ক দ্রুত ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। রাজনৈতিক যোগাযোগ, সরকারি সফর এবং কৌশলগত আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে ব্যস্ততা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এর মধ্যেই আগামী জুনের শেষ সপ্তাহে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে চীনের শীর্ষ দুই নেতা, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে তার পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সুযোগ পাওয়া কূটনৈতিকভাবে ‘ডাবল প্রায়োরিটি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সাধারণত কোনো দেশের সরকারপ্রধান বিদেশ সফরে গেলে এক শীর্ষ নেতার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক এবং অন্যজনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। কিন্তু এবার তারেক রহমানের ক্ষেত্রে চীনের দুই শীর্ষ নেতার সঙ্গেই আলাদা পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে, যা বিরল কূটনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে ২১ থেকে ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করবেন। এরপর ২৩ থেকে ২৬ জুন চীন সফরে যাবেন। তিনি কুয়ালালামপুর থেকে সরাসরি বেইজিং পৌঁছাবেন বলে প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে।
এই সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সম্প্রতি পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বেইজিং সফর করেন। সেখানে তিনি চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়া চুনইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করে সফরের কর্মসূচি, আলোচ্য বিষয়, সম্ভাব্য চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
ঢাকা–বেইজিং কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সফরের সময় একাধিক সমঝোতা স্মারক এবং গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি চলছে, যা শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত করা হবে।
কূটনীতিকদের মতে, এই সফরে চীনের পক্ষ থেকে দেওয়া বিশেষ গুরুত্ব কয়েকটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বহন করছে।
প্রথমত, বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর বেইজিং দ্রুত রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে এবং কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে আগ্রহী। দ্বিতীয়ত, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে চীনের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে তারা। তৃতীয়ত, বড় অবকাঠামো প্রকল্প, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ঢাকার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব নিশ্চিত করাও বেইজিংয়ের লক্ষ্য।
একজন কূটনীতিক বলেন, “দুই শীর্ষ নেতার সঙ্গে আলাদা বৈঠক পাওয়া কেবল প্রোটোকল নয়, এটি রাজনৈতিক বার্তা। চীন স্পষ্টভাবে বোঝাচ্ছে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন স্তরে নিতে চায়।”
এই সফরে ঢাকা–বেইজিং সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে কয়েকটি বিষয়।
এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, চীনা শিল্প স্থানান্তর, জ্বালানি সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন। পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং চট্টগ্রাম–গুয়াংজু ও চট্টগ্রাম–সাংহাই সরাসরি বিমান চালুর বিষয়ও আলোচনায় থাকবে।
বাংলাদেশ রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ, ব্রিকস এবং সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে চীনের সমর্থন চাইবে বলেও জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন বাংলাদেশকে শুধু অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে নয়, বরং আঞ্চলিক যোগাযোগ ও উৎপাদন কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখতে চায়। বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে প্রবেশের সুযোগ আরও বাড়াতে চায় বেইজিং।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈশ্বিক উদ্যোগগুলো, যেমন উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও শাসন কাঠামো সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রকল্পে বাংলাদেশ কীভাবে যুক্ত হতে পারে, সেটিও আলোচনায় আসবে। প্রাথমিকভাবে অন্তত একটি উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ঢাকা আগ্রহ দেখাতে পারে বলে জানা গেছে।
কূটনৈতিক তুলনায় দেখা যায়, আগের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান চীনে সফরকালে শুধু প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। অন্যদিকে এবার নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের জন্য দুই শীর্ষ নেতার সঙ্গে আলাদা বৈঠক নিশ্চিত হওয়াকে বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
বৈঠকের সময়ও আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক প্রায় আধা ঘণ্টা এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য শক্তি এই সফরকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন, ভারত এবং পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। তাই এই সফরকে কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঢাকা–বেইজিং সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে এই সফরের মাধ্যমে। চীনের দেওয়া ‘ডাবল প্রায়োরিটি’ মূলত দুই দেশের মধ্যে আস্থা, কৌশলগত গুরুত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের ফলাফল শুধু বাংলাদেশ–চীন সম্পর্ক নয়, বরং আঞ্চলিক রাজনীতির গতিপথেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্রঃ ঢাকা পোস্ট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au