বাংলাদেশ

শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে: অস্তিত্বের লড়াইয়ে জাগরণ

মতামত- সরদার সেলিম রেজা

  • 3:36 pm - June 15, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৪০৪ বার
শেখ হাসিনা। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৫ জুন- একাত্তরের রক্তে কেনা এই মাটি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের অগ্নিঝরা কণ্ঠে জন্ম নেয়া এই বাংলাদেশ। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে পাওয়া এই মানচিত্র। পাকিস্তানিরা গুলি-বোমায় ধ্বংস করতে পারেনি, মেটিকুলাস ডিজাইনেও এই চেতনা মুছবে না। কারণ বাঙালির অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে জয় বাংলা স্লোগান। ইতিহাস-ঐতিহ্য ছাড়া জাতি বাঁচে না। বঙ্গবন্ধু শিখিয়েছেন—”এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম”। সেই সংগ্রাম আজও চলছে। এবার দেশ বাঁচানোর সংগ্রাম। এবার অস্তিত্বের সংগ্রাম।

এটা রাজনীতির লড়াই না। এটা দেশ বাঁচানোর লড়াই। এটা অস্তিত্বের লড়াই। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তার শেষ অক্ষর এখনো লেখা হয়নি। যুদ্ধ চলমান।

পুলিশের ভয়, মামলা-হামলার ভয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা বুঝে উঠতে পারছিলেন না কী ঝড় বইছে। হাজার হাজার নেতা আত্মগোপনে। জেলা-উপজেলার কমিটি নিষ্ক্রিয়। চারিদিকে ভয়-আতংক আর অন্ধকার। কারণ এই ঝড় শুধু দলের বিরুদ্ধে না—এই ঝড় একাত্তরের বিরুদ্ধে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে, বাংলাদেশের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে।

অস্তিত্বের প্রশ্নে A টিমের আত্মপ্রকাশ-

এই অস্তিত্বের লড়াইয়ের শুর দিনগুলোতে বিদেশে অবস্থানকারী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কয়জন “A টিম” পেজ খুলে দাঁড়ালো। ব্লগার অমি রহমান পিয়াল, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট সুশান্ত দাস গুপ্ত, ডাক্তার আইজুদ্দিন, জুয়েল রাজ, ক্যামিকেল আলী—তারা বুঝলো, চুপ থাকা মানে দেশটাকে হারিয়ে ফেলা। ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার আইনি যুক্তি দিয়ে রাষ্ট্রের গল্প বলছেন। সাংবাদিক সুলতানা রহমান প্রতিদিন নির্যাতন-গণহত্যার ডকুমেন্টেশন করছেন। অনেক ইউটিউব চ্যানেল খুলে ভিউয়ের নতুন ব্যবসা খুলেছেন। লাখ লাখ ফলোয়ার পেয়েছেন। পরিচিতি পেয়েছেন। ৫ আগস্টের কারণে। তাদের মধ্যে কিছু  দেশে ৬/৭ জন, ভারতের সাংবাদিক ৫/৬ জন, বিশ্বের নানাপ্রান্ত সাংবাদিক, লেখক সাহিত্যিক, আইনজীবী, মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে  থেকে প্রায় ৩০-৪০ জন—জোরালো আওয়াজ তুলছেন। বাকি কোটি মানুষ চুপ। কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলার নেতারা নিরব।

২২ মাসের ৪ ধাপ: অস্তিত্ব রক্ষার প্রস্তুতি-

গত ২২ মাস আমি ১৭-১৮ ঘন্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রেখেছি। ৪টা ধাপ দেখেছি:

ধাপ ১: প্রথম ৩ মাস চরম কঠিন। দেশে বিদেশে মিলে আনুমানিক  ৮০-৯০ জন লিখছে, কোটি মানুষ দেখছে।

ধাপ ২: ৩-৮ মাস—অনেকে সাহস করে আসছে, আবার ভয়ে চলে যাচ্ছে।

ধাপ ৩: ৮-১৬ মাস—ভারত-ইউরোপের প্রবাসীরা যুক্ত হচ্ছে।

ধাপ ৪: ১৬-২২ মাস—দেশের প্রবাসে কোটি সোশ্যাল  নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়েছে। প্রতিদিন লাখ লাখ নামে বেনামে যুক্ত হচ্ছে। লড়াই করছে। তবে এই পুরোটা সময় আওয়ামী লীগের হয়ে আন্তজার্তিক সীমারেখা কাজ করেছেন, সবার নজর কেড়েছেন তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী ব্যারিস্টার নওফেল। তাঁর সাহসী উচ্চারণ ও দৃঢ়  মনোভাব ব্যক্ত করেছেন বলিষ্ঠভাবে যে ৫ আগস্ট ছিল মেটিকুলাস ডিজাইন ও ষড়যন্ত্রের জাল ।

এই অস্তিত্বের লড়াইয়ে আমি দুটি আইডি থেকে ৭৮ হাজার পোস্ট করেছি। চলমান ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে কলাম লিখে গেছি। এটা রেকর্ড হতে পারে। আমার মতে আরও ৪৫০-৬০০ জন কমবেশি হতে পারে  নবীন-প্রবীণ একটিভিস্ট নিরবচ্ছিন্ন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আমার কাছে পুরো তালিকা আছে।  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের অস্তিত্বকে ভালোবেসে।

আলোর সূচনা: নেতারা ফিরছেন, জনতা জাগছে-

তবে আশার কথা—গত ৩/৪ মাসে চিত্র বদলেছে। অনেক নেতা সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক, লেখক, সাহিত্যিক, বীর মুক্তিযোদ্ধারা অগ্রভাগে। এমনকি আওয়ামী লীগ-বিরোধী কিন্তু নিরপেক্ষ কথা বলে আলোচিত হচ্ছেন সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর, মনজুরুল আলম পান্না, মাসুদ কামাল, মাহবুব কামাল, ডা. আবদুন নূর তুষার ও আরও কয়েকজন। কারণ তারাও বুঝেছেন—দেশ না থাকলে মতেরও দাম নাই।

২০২৬ সালের এপ্রিলে মি: অমি রহমান পিয়াল “পুঁথি গান” লিখে ভাইরাল করলেন। ফেসবুকে ৩০ লাখ+, ইউটিউবে ২০ লাখ+, টিকটকে ১ কোটি+ রিচ। যা একটি রেকর্ড, মাইলফলক। গানের কথা-সুর-গায়কী অসাধারণ ছিল। কোটি কোটি মানুষের মুখে মুখে ভাসছে। ৭১-এর চেতনাকে লোকসংগীতের মোড়কে দিলে মানুষ গ্রহণ করে—কারণ মানুষ জানে, এটা অস্তিত্বের লড়াই।

জাগরণের ঘোষণা: শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে-

আর এখন এসেছে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা দৃঢ়ভাবে উচ্চারণ করেছেন—”আমি শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরবো”। এই একটি ঘোষণাতেই লক্ষ কোটি কর্মী-সমর্থক আবার জেগে উঠেছে নব উদ্দমে। সব ভয়-আশংকা, মামলা-মব-পুলিশ-জেল-জুলুম উপেক্ষা করে।

দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলার সব জায়গা থেকে বড় বড় মিছিল বের হচ্ছে “জয় বাংলা” স্লোগান দিয়ে। রাজপথ কাঁপছে। মানুষ বুঝে গেছে—শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে। তাদের এখন আর কেউ আটকাতে পারবে না। তাদের ভয় ভেঙে গেছে। যেহেতু তারা মরতে শিখেছে, এখন তারা এই দেশকে বাঁচাবেই। দুর্দিনের অপশাসনের অবসান হবেই।

চূড়ান্ত বার্তা: ক্রেডিট না, চেতনা; বিভেদ না, ঐক্য-

৫ আগস্টের ঘটনায় আসল-নকল চেনা গেছে। দেখেছি—পদধারী লোকের চেয়ে পদবীহীন কর্মী-সমর্থক-আদর্শের লোকদের নৈতিক অবস্থান দৃঢ় ছিল। তারাই প্রথম কলম ধরেছে। এখন নেতাও ফিরছেন, জনতাও জাগছে।

কিন্তু যুদ্ধ চলাকালীন বিপদ—একই আদর্শ-চেতনার লোকের মধ্যে কামড়াকামড়ি। সাংবাদিক সুলতানা রহমান বনাম ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার। অমি রহমান পিয়াল বনাম নিঝুম মজুমদার। ডাক্তার আইজুদ্দিন ও অন্যদের মধ্যেও বিবাদের কথা শোনা যাচ্ছে।

তবে এখানে স্পষ্ট করে বলতে চাই: কেউ হয়তো জন্ম থেকে আওয়ামী লীগ, কেউ হয়তো রক্তে আওয়ামী লীগ, কেউ নতুন আওয়ামী লীগ—এতে সমস্যা নেই। ভুল বুঝতে পেরে খারাপ সময়ে পাশে দাঁড়িয়ে চেতনা ধারণ করে লড়াই-সংগ্রাম-যুদ্ধ করছে তো—সেটাই গুরুত্ব দিতে হবে এখন। কেউ কম বেশি অবদান রাখবে এটাই তো স্বাভাবিক। এটা নিয়ে ক্রেডিট দেখানোর কিছু নেই। আওয়ামী লীগ, মুক্তিযুদ্ধের হয়ে জন্ম নিয়ে অনেকে আদর্শ-চেতনা-দলচ্যুত হয়েছেন। এ উদাহরণ অনেক আছে। ইতিহাস সাক্ষী—৭৫-এর পরও অনেকে ঘরে ফিরেছে, আবার হারিয়ে গেছে।

অস্তিত্বের লড়াইয়ে বিভেদ মানে আত্মহত্যা। শত্রু যখন মানচিত্র মুছতে চায়, তখন মিত্ররা ঝগড়া করলে মানচিত্র মুছেই যাবে। কে কতদিনের কর্মী, কে কত পোস্ট দিলো—এই হিসাব এখন না। এখন হিসাব একটাই: কে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াচ্ছে।

এই অস্তিত্বের লড়াইয়ে সারা বিশ্বে এখন কোটি মানুষ শরিক হয়েছেন। সত্যের জয় হবে। একাত্তর, মুক্তিযুদ্ধ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ-চেতনা টিকে থাকবে। কোনো মেটিকুলাস ডিজাইন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মানুষের মন থেকে প্রকৃত পরিচয় দূর করা যাবে না।

বাংলাদেশ এখনো মহাসংকটের মহাসমুদ্রে। বোধের জায়গা পরিষ্কার করতে হবে। বিভেদ না, ঐক্য চাই। কলম চাই, কলহ না। নেতা-কর্মী-সমর্থক-বুদ্ধিজীবী-মুক্তিযোদ্ধা—সবাই এক সারিতে দাঁড়াতে হবে। কারণ এটা দেশ বাঁচানোর লড়াই। এটা অস্তিত্বের লড়াই।

শেখ হাসিনা আসবেন। বাংলাদেশ হাসবে। জয় বাংলার জয় হবেই।

সবার সুস্থ, সুন্দর জীবন কামনা করছি।

জয় বাংলার জয় হোক। বাংলাদেশের আপামর জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক মুক্তি হোক।

সরদার সেলিম রেজা। ছবিঃ সংগৃহীত

লেখক- লেখক- সরদার সেলিম রেজা, কবি ও পরিবেশ কর্মী,  প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: বাংলাদেশ ইতিহাস ঐতিহ্য কেন্দ্র

এই শাখার আরও খবর

ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে বৈঠক কেন অস্বীকার করছে জামায়াত

ভারতের উচ্চপর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠকের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক…

চট্টগ্রামে অস্ত্রের মুখে নারীকে জিম্মি করে ২৫ লাখ টাকা ছিনতাই

চট্টগ্রামের রাউজানে দিনদুপুরে অস্ত্রের মুখে এক নারীকে জিম্মি করে জমি কেনার জন্য নিয়ে যাওয়া ২৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল…

বাংলাদেশিদের রাশিয়ার যুদ্ধে যোগ দিতে বাধ্য করার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৯টি দেশের নাগরিকদের প্রতারণা ও জোরজবরদস্তির মাধ্যমে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগ করে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশন। ভ্রমণ, চাকরি…

নীলফামারীতে হিন্দু যুবক শ্যামল শর্মাকে পিটিয়ে হত্যা

নীলফামালীর ডোমারে শ্যামল শর্মা (৩৮) নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) গভীর রাতে উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের নীলাহাটি গ্রামে এ ঘটনা…

বেন গিভিরের ওপর ক্ষোভ, দলে দলে ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছেন আরব বেদুঈনরা

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গিভিরের ওপর ক্ষোভ থেকে ভোট দিতে দলে দলে ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছেন দেশটির আরব বেদুঈন সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। সরকারের নীতির প্রতি অসন্তোষ এবং…

বাংলাদেশে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে তারেক রহমানকে চাপ দিয়েছিল যুক্তরাজ্য: ব্রিটিশ এমপি

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের ওপর ব্রিটিশ সরকার চাপ সৃষ্টি করেছিল বলে দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ পার্টির সংসদ সদস্য…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au