৮০ ঘণ্টা পর সীমান্ত থেকে ১২ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৬ জুন- কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে টানা প্রায় ৮০ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখায় আটকে থাকা চার শিশু ও চার নারীসহ ১২ জনকে অবশেষে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। সোমবার বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে জরুরি পতাকা বৈঠকের পর তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, গত শুক্রবার ভোরে ভারতের প্রাগপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে ওই ১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির কড়া অবস্থান ও স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধের মুখে তারা সীমান্তের শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে একটি পাটখেতে আটকা পড়ে যায়।
এরপর টানা চার দিন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে বাধ্য হন তারা। এ সময় রোদ, বৃষ্টি, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। সীমান্ত এলাকায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং মানবিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্তে আটকে থাকায় ওই ব্যক্তিদের দুর্দশা ক্রমেই বাড়ছিল। খাবার, পানীয় জল ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে তারা চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটিয়েছেন। শিশুদের মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণও দেখা দিয়েছিল বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
এদিকে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলেও সীমান্তে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কাউকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নেয় বাহিনীটি।
অবশেষে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে বেলা ১১টার দিকে বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ১২ জনকে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নেয়।
দীর্ঘ ৮০ ঘণ্টার অচলাবস্থার অবসান হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বিজিবি জানিয়েছে, দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা পুশইনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিরোধে বাহিনীটি সতর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে মানবিক সংকট এড়াতে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে পুশইন নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, দৌলতপুরের এই ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাও আবার সামনে এসেছে।