সিরিয়ায় নিখোঁজ আইএস-সংশ্লিষ্ট নারী-শিশুকে ফেরাতে সেভ দ্য চিলড্রেনের আহ্বান। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৫ জুন- সিরিয়ায় আটক থাকা আইএস-সংশ্লিষ্ট এক অস্ট্রেলীয় নারী ও তার প্রতিবন্ধী শিশুকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী শিশু অধিকারবিষয়ক সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেন। সংগঠনটি বলেছে, মা ও শিশুটিকে নিরাপদে দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া উচিত, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন খবর পাওয়া যাচ্ছে তারা সিরিয়ার কারাগার ব্যবস্থার ভেতরে নিখোঁজ হয়ে গেছেন।
অস্ট্রেলীয় নাগরিক হোদান অ্যাবি গত মে মাসে সিরিয়া থেকে দেশে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। সে সময় আইএস-সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন নারী ও শিশুর সঙ্গে তিনি সিরিয়া ত্যাগের উদ্যোগ নেন। তবে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের জারি করা একটি অস্থায়ী বহিষ্কারাদেশের কারণে তিনি দামেস্ক থেকে অস্ট্রেলিয়াগামী বিমানে উঠতে পারেননি।
অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার পরামর্শে জারি করা ওই আদেশের ফলে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে হোদান অ্যাবির অস্ট্রেলিয়ায় ফেরা সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা তার সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
হোদান অ্যাবির বয়স ২৯ বছর। সিরিয়া ছাড়ার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর দেশটির কর্তৃপক্ষ তাকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিবের একটি আটককেন্দ্রে স্থানান্তর করে। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, এরপর থেকে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারছেন না।
এ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন সেভ দ্য চিলড্রেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী ম্যাট টিংকলার। তিনি বলেন, শিশুটি একজন অস্ট্রেলীয় নাগরিক এবং সে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তার জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
ম্যাট টিংকলার বলেন, “এটি একজন নির্দোষ অস্ট্রেলীয় শিশু, যে বর্তমানে অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় আছে এবং দ্রুত চিকিৎসা সহায়তার প্রয়োজন। আমরা ফেডারেল সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, যেন মা ও শিশুকে নিরাপদে দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়। এতে শিশুটি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা পাবে এবং অস্ট্রেলীয় সমাজে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে।”
তিনি আরও বলেন, অস্থায়ী বহিষ্কারাদেশের মতো ব্যবস্থা কার্যত অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব দায়িত্ব অন্য একটি দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার শামিল। তার মতে, দেশের নাগরিকদের বিষয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পরিবর্তে এমন পদক্ষেপ মানবিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া সরকার এর আগে সিরিয়ার বিভিন্ন শরণার্থী ও আটক শিবির থেকে আইএস-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নারী ও শিশুকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। তবে জাতীয় নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে ক্যানবেরা।
হোদান অ্যাবি ও তার শিশুকে ঘিরে নতুন এই পরিস্থিতি অস্ট্রেলিয়ায় মানবাধিকার, জাতীয় নিরাপত্তা এবং নাগরিক দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ বা নিরাপত্তা উদ্বেগ থাকলেও শিশুর মৌলিক অধিকার এবং চিকিৎসাসেবার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত।