গ্রুপ পর্বে খেলতে পারছেন না নেইমার, নকআউট পর্বতেও অনিশ্চয়তা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৬ জুন- চোটের কারণে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের হয়ে খেলতে পারছেন না তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। প্রথম ম্যাচ মিস করার পর এবার নিশ্চিত হয়েছে যে গ্রুপ পর্বের বাকি দুই ম্যাচেও মাঠে নামতে পারবেন না তিনি। ফলে ব্রাজিল শিবিরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ব্রাজিলের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা এখনও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। দলের চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত মাঠে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে গেলেও গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে ঝুঁকি নিতে রাজি নন।
গত ১৭ মে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসের হয়ে একটি ম্যাচ খেলতে গিয়ে পায়ের পেশিতে চোট পান নেইমার। এরপর চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। চোট পাওয়ার প্রায় ১০ দিন পর তিনি ব্রাজিল জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিলেও এখন পর্যন্ত সতীর্থদের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে অংশ নিতে পারেননি।
চোটের কারণেই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামতে পারেননি তিনি। সেই ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ১-১ গোলে ড্র করে, যা দলের জন্য হতাশাজনক ফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নেইমারের অনুপস্থিতি ম্যাচে স্পষ্টভাবেই অনুভূত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এখন জানা গেছে, আগামী ২০ জুন হাইতির বিপক্ষে এবং ২৫ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ দুই ম্যাচেও তাকে পাওয়া যাবে না। চিকিৎসকরা তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও কিছুদিন চালিয়ে যেতে চান।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, দলের মেডিকেল বিভাগ আশা করছে নকআউট পর্ব শুরুর আগে নেইমারকে পুরোপুরি ফিট করে তোলা সম্ভব হবে। সে কারণে গ্রুপ পর্বে তাকে বিশ্রামে রাখা হচ্ছে। তবে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি প্রত্যাশিত গতিতে না হলে নকআউট পর্বেও তাকে পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যেতে পারে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি নেইমারের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের আগে তিনি বলেছিলেন, নেইমার দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং আগামী সপ্তাহে দলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গভাবে যোগ দিতে পারবেন বলে তারা আশা করছেন।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনও সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। দলের অনুশীলনে পুরোপুরি ফিরতে না পারায় তাকে নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে কোচিং স্টাফ ও চিকিৎসক দল।
নেইমারের অনুপস্থিতি ব্রাজিলের আক্রমণভাগে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের অন্যতম ভরসা হিসেবে খেলে আসা এই ফরোয়ার্ডের অভিজ্ঞতা এবং সৃজনশীলতা বড় ম্যাচে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
এদিকে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে ব্রাজিল। তবে সমর্থকদের চোখ থাকবে নেইমারের পুনর্বাসন অগ্রগতির দিকেও। কারণ নকআউট পর্বে শিরোপা লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে ব্রাজিলের জন্য তার ফিরে আসা বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে
বর্তমানে ব্রাজিল দলের চিকিৎসকরা নেইমারের শারীরিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। আগামী কয়েক দিনের অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করবে বিশ্বকাপের পরবর্তী পর্বে তাকে মাঠে দেখা যাবে কি না। ফলে ব্রাজিল সমর্থকদের অপেক্ষা এখন নেইমারের সুস্থ হয়ে ফেরার খবরের দিকে।