সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরী মারা গেছেন
মেলবোর্ন, ২২ জুন- কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ নেত্রী সেলিমা আহমাদ মেরী আর নেই। রোববার (২১ জুন) রাত ৭টা ৪০ মিনিটে থাইল্যান্ডের…
মেলবোর্ন, ২২ জুন- অস্ট্রেলিয়ার আবাসন বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের আস্থার সংকট আরও গভীর হয়েছে। দেশটির প্রধান শহরগুলোতে বাড়ি বিক্রির নিলাম সফলতার হার (অকশন ক্লিয়ারেন্স রেট) কোভিড-১৯ মহামারির শুরুর সময়ের পর প্রথমবারের মতো ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে জাতীয় গড় ক্লিয়ারেন্স রেট দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৭ শতাংশ, যা ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন।
সম্পত্তি তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কোটালিটির গবেষণা পরিচালক টিম ললেস জানিয়েছেন, চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশিত হলে এই হার আরও কমে ৪০ শতাংশের মাঝামাঝি পর্যায়ে নামতে পারে। তার মতে, মহামারির প্রথম দিকের লকডাউন পরিস্থিতির পর এত দুর্বল বাজার আর দেখা যায়নি।
সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে সিডনির আবাসন বাজার। গত সপ্তাহে সেখানে নির্ধারিত ৬৪৫টি নিলামের মধ্যে মাত্র ২২৫টি সফলভাবে বিক্রি হয়েছে। একই সময়ে ১৬৬টি নিলাম শেষ মুহূর্তে প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ সুদের হার, মূল্যস্ফীতির চাপ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক বাজেট ঘোষণার পর বিনিয়োগকারীদের আস্থায় আরও ধাক্কা লেগেছে বলেও মনে করছেন তারা।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া সুদের হার ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখলেও চলতি বছরে এর আগে তিন দফা সুদ বাড়ানো হয়েছিল। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং বেকারত্ব বৃদ্ধির তথ্য বাজারে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
টিম ললেস বলেন, বর্তমানে বিক্রেতাদের বাস্তবসম্মত মূল্য প্রত্যাশা নিয়ে বাজারে আসতে হবে। কারণ এখন বাজারের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ক্রেতাদের হাতে চলে গেছে। বিক্রির জন্য বাড়ির সংখ্যা বেড়েছে, ফলে ক্রেতাদের সামনে আগের তুলনায় অনেক বেশি বিকল্প রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ক্রেতাদের মধ্যে এখন আর তাড়াহুড়োর প্রবণতা নেই। তারা সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং দর-কষাকষির ক্ষেত্রেও বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির গতি আরও ধীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে সিডনি ও মেলবোর্নে আবাসনের দাম কমতে শুরু করেছে। অন্যদিকে অ্যাডিলেড, ব্রিসবেন ও পার্থের মতো শহরগুলোতেও মূল্যবৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। গত চার সপ্তাহে অ্যাডিলেডে বাড়ির দাম বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ, যা এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। ব্রিসবেনে এই হার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং পার্থে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের নতুন করনীতিও বাজারে প্রভাব ফেলছে। ২০২৭ সালের জুলাই থেকে মূলধনী মুনাফার ওপর ন্যূনতম ৩০ শতাংশ কর আরোপ এবং আবাসিক সম্পত্তিতে নেগেটিভ গিয়ারিং সুবিধা কেবল নতুন নির্মাণ প্রকল্পের মধ্যে সীমিত করার পরিকল্পনা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার আবাসন বাজার এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী কয়েক মাসে বাড়ির দাম বৃদ্ধির গতি আরও কমবে এবং ক্রেতাদের প্রভাব বাজারে আরও শক্তিশালী হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au