তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ, ১৮ জনের মৃত্যু
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- ইউরোপজুড়ে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রা অতীতের রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। চরম…
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- ভারতে মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংসের অভিযোগ তুলে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির দেওয়া বক্তব্য ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জারদারির মন্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’, ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘বিদ্বেষপ্রসূত রাজনৈতিক আক্রমণ’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। একই সঙ্গে নয়াদিল্লি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো অধিকার বা এখতিয়ার পাকিস্তানের নেই।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাণসীর ঐতিহাসিক মসজিদ-ই-গাঞ্জে শাহীদাসহ বিভিন্ন মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ভারতে মুসলিম ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে হুমকি ও ভাঙচুরের ঘটনা উদ্বেগজনক এবং এসব কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।
জারদারি বলেন, শত শত বছর পুরোনো ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা ধ্বংসের চেষ্টা শুধু সংখ্যালঘুদের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে না, বরং ভারতের সামাজিক সম্প্রীতিও বিপন্ন করছে। তিনি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দীর্ঘমেয়াদে ভারতকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
তবে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের মন্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভারত তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার কোনো নৈতিক বা রাজনৈতিক অবস্থান পাকিস্তানের নেই।
রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, মানবাধিকার ও সংখ্যালঘু সুরক্ষার বিষয়ে পাকিস্তানের নিজস্ব রেকর্ড অত্যন্ত দুর্বল। ফলে এ ধরনের অভিযোগ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আসা আরও বেশি অযৌক্তিক বলে মনে হয়। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় পদ্ধতিগত বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের প্রতিক্রিয়ায় হিন্দু, শিখ ও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংসতার প্রসঙ্গও তুলে ধরে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পর্যবেক্ষণের উল্লেখ করে বলা হয়, ধর্ম অবমাননা আইনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে এখনও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে।
ভারতের দাবি, জারদারির সাম্প্রতিক মন্তব্য মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ভারতবিরোধী অবস্থানেরই প্রতিফলন। নয়াদিল্লির ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে। সর্বশেষ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লির মধ্যে বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে, যা আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
সুত্রঃ দি ইন্ডিপেন্ডেন্টের।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au