দেশব্যাপী আন্দোলনে নামতে চায় ভারতের মুসলিমরা
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান হামলা, বৈষম্য ও ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে দেশব্যাপী আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির মুসলিমদের অন্যতম…
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যতিক্রমী এক পদক্ষেপ নিয়েছে কানাডার কুইবেক প্রদেশের ছোট শহর টেরেস-ভড্রিউইল। শহরটির সিটি কাউন্সিল গাছকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং ঘোষণা করেছে যে গাছেরও বেঁচে থাকা, নিরাপদে বৃদ্ধি পাওয়া ও বংশবিস্তার করার অধিকার রয়েছে।
গত ৯ জুন গৃহীত এক প্রস্তাবে টেরেস-ভড্রিউইল সিটি কাউন্সিল জানায়, গাছ কেবল পরিবেশের একটি উপাদান নয়, বরং তারা এমন জীবন্ত সত্তা যাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নতুন ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রতিটি গাছের বেঁচে থাকার, স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার, নিরাপদ পরিবেশে থাকার এবং প্রাকৃতিকভাবে বংশবৃদ্ধির অধিকার রয়েছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল অবজারভেটরি অব নেচার রাইটস’ জানিয়েছে, কুইবেক তো বটেই, পুরো কানাডায় এই প্রথম কোনো পৌরসভা গাছকে এ ধরনের অধিকার দিয়ে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিল। প্রায় দুই হাজার জনসংখ্যার এই ছোট শহরটি একই সঙ্গে ‘গাছের অধিকারবিষয়ক বৈশ্বিক ঘোষণাপত্রে’ স্বাক্ষরকারী কানাডার প্রথম পৌরসভাও হয়েছে।
শহরটির মেয়র মিশেল বোর্দো বলেন, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে কুইবেকের চলচ্চিত্র নির্মাতা আন্দ্রে ডেসরোচারসের নির্মিত তথ্যচিত্র ‘ডেস আর্বেস অ্যাট ডেস আর্টস’। তথ্যচিত্রটি স্থানীয় বাসিন্দাদের উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে যে গাছও এক ধরনের জীবন্ত সত্তা, যারা শ্বাস নেয়, বেড়ে ওঠে এবং শিকড়ের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
মেয়র বোর্দো বলেন, “একটি গাছ অনেক দিক থেকে মানুষের মতোই। এটি শ্বাস নেয়, পানি গ্রহণ করে এবং জীবনের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে। একই সঙ্গে গাছ আমাদের নানা প্রাকৃতিক ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”
‘গাছের অধিকারবিষয়ক বৈশ্বিক ঘোষণাপত্রে’ উল্লেখ করা হয়েছে, গাছ পৃথিবীর প্রাণব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। গাছ ছাড়া জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। তাই মানুষের উচিত গাছের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী আচরণ করা এবং তাদের অস্তিত্ব রক্ষায় সচেষ্ট থাকা।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে টেরেস-ভড্রিউইল শহরের বিদ্যমান পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হবে। কোনো কারণে গাছ কাটার প্রয়োজন হলে তার পরিবর্তে নতুন গাছ লাগানোর বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শহরে সবুজায়ন বাড়াতে বাসিন্দাদের মধ্যে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
মেয়র বোর্দোর ভাষায়, “গাছপালা আসলে আমাদের প্রাকৃতিক সবুজ অবকাঠামো। এগুলো শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, বাতাসের মান উন্নত করে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।”
পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, তাপপ্রবাহ ও নগরায়ণের চাপে যখন বিশ্বের বিভিন্ন শহরে সবুজ এলাকা দ্রুত কমে যাচ্ছে, তখন টেরেস-ভড্রিউইলের এই উদ্যোগ অন্য শহরগুলোর জন্যও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। তাদের মতে, গাছকে কেবল সম্পদ হিসেবে নয়, বরং পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য জীবন্ত অংশ হিসেবে বিবেচনা করার এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে প্রকৃতি সংরক্ষণ আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au