২৮ জুন থেকে আবার চালু হচ্ছে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আবারও পর্যটক ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। দীর্ঘ বিরতির পর আগামী ২৮ জুন (রোববার) থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা…
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহরে ভবন ধসে পড়েছে, হাজারো মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত ও নিখোঁজ রয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইয়ারাকুই অঙ্গরাজ্যের রাজধানী সান ফেলিপের কাছে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্র ৪০ সেকেন্ড পর একই অঞ্চলে আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প হয়। দ্বিতীয় ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ইউমারে শহরের প্রায় ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। ওই এলাকায় ভেনেজুয়েলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি তেল শোধনাগার রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এত অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি বড় ভূমিকম্প হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার সিসমোলজি রিসার্চ সেন্টারের প্রধান বিজ্ঞানী অ্যাডাম পাসকেল বলেন, একটি বড় ভূমিকম্পের পর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত করা খুবই বিরল ঘটনা। এতে ধ্বংসযজ্ঞের প্রভাব আরও তীব্র হয়েছে। তিনি মনে করেন, ১৯৬৭ সালে কারাকাসের কাছে সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিকম্পের চেয়েও এবারের ক্ষয়ক্ষতি বেশি হতে পারে।

বুধবার সন্ধ্যায় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানলে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বহু ভবন ধসে পড়ে। ছবিঃ সংগৃহীত
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে রাজধানী কারাকাসেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আলতামিরা, চাকাও, বারুতা ও অন্যান্য এলাকায় বহু ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। চাকাও এলাকার মেয়র গুস্তাভো ডুকে জানিয়েছেন, তাঁর এলাকায় অন্তত চারটি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে, একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে এবং ২২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩০টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কারাকাসের বাসিন্দা লুইস আলেহান্দ্রো রুইজ গার্সিয়া বলেন, ভূমিকম্প শুরুর কয়েক সেকেন্ড আগে তাঁর মোবাইলে সতর্কবার্তা আসে। এরপরই তীব্র কম্পনে দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। তিনি বলেন, জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ মুহূর্তগুলোর একটি ছিল এটি। পরিবার নিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পর তিনি দেখেন, বিপরীত পাশের একটি ভবন ধসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং ভেতর থেকে সাহায্যের জন্য মানুষের চিৎকার শোনা যাচ্ছে।
সাংবাদিক নোরিস সোটো বলেন, সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ বাড়িতে ছিলেন। তিনি জানান, হঠাৎ তীব্র কম্পনে ভবনের কাচ ভেঙে পড়ে এবং মাঝখানে ফাটল দেখা দেয়। আতঙ্কিত মানুষ দ্রুত রাস্তায় নেমে আসে। তাঁর ভাষায়, মানুষ এখনো বুঝে উঠতে পারছে না ঠিক কী ঘটেছে।
ইউএসজিএস সতর্ক করে জানিয়েছে, ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অনেক ভবন ভূমিকম্প সহনশীল নয়। ফলে ধ্বংসযজ্ঞ আরও বাড়তে পারে।
অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেন, রাজধানী কারাকাস, মিরান্দা, লা গুয়াইরা, আরাগুয়া, কারাবোবো ও ফ্যালকন অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
সরকার জানিয়েছে, রাজধানীর কাছে অবস্থিত সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এক সপ্তাহের জন্য শ্রেণিকক্ষে পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে। রেল যোগাযোগ এবং জরুরি নয় এমন সরকারি কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুই শক্তিশালী ভূমিকম্প, ধসে পড়েছে ভবন। ছবিঃ সংগৃহীত
ফ্যালকন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ভিক্টর ক্লার্ক জানিয়েছেন, উপকূলীয় অঞ্চলের একটি বহুতল ভবন ধসে অন্তত ১৫ জন আটকা পড়েছেন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসার জন্য জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তুকাকাস শহরের একটি হাসপাতালে অন্তত ৩৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ভূমিকম্পের পর নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে গ্যাসজনিত দুর্ঘটনা এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগেও বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান নেটব্লকস জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলায় ইন্টারনেট সেবায় উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে।
এদিকে ব্রাজিল, বলিভিয়া, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, এল সালভাদর, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, চীন ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশ ভেনেজুয়েলার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জরুরি সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ভেনেজুয়েলার জন্য এই দুর্যোগ নতুন করে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au