জাপানেও শক্তিশালী ভূমিকম্প, বুলেট ট্রেন চলাচল বন্ধ
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কেঁপে উঠেছে পূর্ব এশিয়ার দেশ জাপান। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত…
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার তারাতলা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি গুদামের ছাদ ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রায় একদিন পরও ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, দমকল, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছেন।
বুধবার সরকারিভাবে প্রথমে পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হলেও বৃহস্পতিবার সকালে ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে মোট ৩১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেককে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কয়েকজন শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের সন্ধানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের সিগন্যাল শনাক্ত করে অবস্থান নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর বিশেষ রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ধস বা তুষারধসের নিচে চাপা পড়া মানুষের অস্তিত্ব শনাক্ত করতে সক্ষম।
এ ছাড়া উদ্ধার অভিযানে স্নিফার ডগ, হাইড্রোলিক ক্রেন, গ্যাস কাটারসহ বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশাল লোহার বিম ও কংক্রিটের স্তূপ সরিয়ে ধাপে ধাপে ধ্বংসস্তূপের ভেতরে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা জানান, রাতভর অভিযান চললেও এখনও কাজ শেষ হয়নি।
ঘটনাস্থলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিব ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী উপস্থিত থেকে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছেন। দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ, দমকল ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার কাজে নামেন। পরে রাজ্য সরকারের অনুরোধে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীও অভিযানে যোগ দেয়।
পুলিশ ইতোমধ্যে এ ঘটনায় গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরাকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার মধ্যরাতে তারাতলা এলাকার একটি আবাসিক ভবন থেকে তাকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার, সুপারভাইজার, শ্রমিক সরবরাহকারীসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন কাঠামো প্রকৌশলী কমল সামন্ত, সুপারভাইজার সৈয়দ মোহাম্মদ গুলজার, শ্রমিক সরবরাহকারী মোহাম্মদ আতাউল এবং সুভাষ সরকার। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে। গোয়েন্দা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত এই দল পুরো ঘটনার তদন্ত করছে।
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ১২টা ৭ মিনিটের দিকে নির্মাণাধীন গুদামের বিশাল ছাদ হঠাৎ ধসে পড়ে। সে সময় অন্তত ৪০ জন শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে লোহার কাঠামো ও কংক্রিটের স্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান তারা।
কলকাতা পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলের জমিটি বন্দর কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন। ২০২৪ সালের আগস্টে ‘বেহরা ব্রাদার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ৩০ বছরের জন্য জমিটি ইজারা নেয়। প্রতিষ্ঠানটি মূলত চা-পাতা সংরক্ষণ ও প্যাকেজিংয়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। নির্মাণাধীন গুদামটির কাজও তাদের তত্ত্বাবধানে চলছিল।
এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, নির্মাণকাজে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না এবং নিরাপত্তাবিধি মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এবং হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সূত্রঃ এই সময় পত্রিকা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au