জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি এএফডির ঐতিহাসিক জয়
জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেয়েছে কট্টর ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে দলটি প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট…
মেলবোর্ন, ২৬ জুন- জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতার সঙ্গে অন্য কোনো শ্রেণির সম্মানী ভাতার তুলনা হতে পারে না। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে, এটি ভালো উদ্যোগ। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা এক টাকা হলেও তা বাড়ানো উচিত।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। ফজলুর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা ২০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীকসহ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতায় পাঁচ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদ পরিবারকে মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করেন। একই সঙ্গে আহতদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ২০ হাজার, ১৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা ভাতা নির্ধারণের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তবে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতার সঙ্গে অন্য কারও ভাতার তুলনা করা উচিত নয়।
সরকারি দলের সদস্যদের উদ্দেশে ফজলুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের তুলনা রাজনৈতিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর ভাষায়, বিএনপির অধিকাংশ সংসদ সদস্যকে শেষ পর্যন্ত বলতে হয়েছে যে তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। অন্যদিকে কেউ কেউ নিজেদের জুলাইয়ের পক্ষে, সৎ নেতৃত্বের পক্ষে ও সৎ রাজনীতির পক্ষে বলছেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে অন্য কোনো শ্রেণির তুলনা করলে ভবিষ্যতে তার জবাব দিতে হবে।
তিনি বলেন, তিনি জুলাই যোদ্ধাদের অসম্মান করছেন না। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানকে স্বতন্ত্রভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
বাজেট আলোচনায় শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে সংস্কৃতি খাতেও বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ভাত ও তরকারির যেমন সম্পর্ক, শিক্ষা ও সংস্কৃতির সম্পর্কও তেমন। একটি খাতকে উপেক্ষা করে অন্য খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষা ও সংস্কৃতির সমন্বয় ছাড়া একটি সভ্য সমাজ গড়ে উঠতে পারে না।
এ সময় তিনি নিজের শৈশবের ধর্মীয় সম্প্রীতি, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও সামাজিক চর্চার স্মৃতিচারণ করেন। কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, কিছু মানুষ নাটক, খেলাধুলা কিংবা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পছন্দ করে না। এমনকি আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের খেলা দেখার বিরুদ্ধেও কথা বলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী সমাজকে মধ্যযুগীয় চিন্তাধারার দিকে নিয়ে যেতে চায়। তারা সভ্যতা, সংস্কৃতি ও সহনশীলতার মূল্যবোধকে অস্বীকার করছে। এ ধরনের প্রবণতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, বিশ্বের জনপ্রিয় ফুটবলার লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে বাংলাদেশে এনে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করা হলে মানুষ একদিন আগ্রহ নিয়ে খেলা দেখতে যাবে। কিন্তু রাজনীতিতে যদি আকর্ষণ ও জনগণের আস্থা না থাকে, তাহলে একসময় রাজনৈতিক অঙ্গনও দর্শকশূন্য হয়ে পড়বে।
ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামমন্দির ও মূর্তি নির্মাণের বিরোধিতা করে প্রতিদিন স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। সরকার চাইলে প্রকল্পটি বন্ধ করতে পারে। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, মন্দির নির্মাণে মুসলমানদের কোনো ক্ষতি নেই।
তিনি বলেন, কেউ মন্দিরে পূজা করবেন, কেউ মসজিদে নামাজ পড়বেন। এতে একসঙ্গে বসবাসে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পীর, মাজার ও সুফি সংস্কৃতির ওপর হামলার সমালোচনা করে ফজলুর রহমান বলেন, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরে ধর্মীয় ব্যক্তিদের ওপর হামলার ঘটনা দুঃখজনক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শাহজালালের মাজার ভাঙার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হবে কেন? কেউ চাইলে মাজারে যাবেন, না চাইলে যাবেন না। কিন্তু কারও ধর্মীয় বিশ্বাস বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর আঘাত করা গ্রহণযোগ্য নয়।
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি ধর্মকে ব্যবহার করে ব্যবসা বা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার প্রবণতারও সমালোচনা করেন এবং ধর্মীয় সহনশীলতা, সংস্কৃতিচর্চা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au