বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার জরুরি সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার, বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারের মূল্য এবং সরবরাহজনিত অস্থিরতা মোকাবিলা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করতে ১১০…
মেলবোর্ন, ২৮ জুন- অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী জোটের উপনেতা জেন হিউম বলেছেন, ওয়ান নেশন পার্টি এবং এর নেতা পলিন হ্যানসনকে তিনি রাজনৈতিক শত্রু হিসেবে দেখেন না। লিবারেল পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা অ্যান্ড্রু হ্যাস্টি ওয়ান নেশনের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কুৎসা প্রচারের অভিযোগ তোলার মাত্র দুই দিন পর তার এ মন্তব্য দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
রোববার রেডিও স্টেশন টুজিবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেন হিউম বলেন, ওয়ান নেশন এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরছে, যা অনেক অস্ট্রেলীয় নাগরিকের উদ্বেগের প্রতিফলন। যদিও দলটির সব নীতির সঙ্গে তিনি একমত নন, তবু তার মতে, দেশের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো লেবার সরকারের নীতিমালা।
তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেক মানুষ সরকারের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন। এই অসন্তোষের সুযোগেই ওয়ান নেশনের মতো দলগুলো জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। তবে তিনি দাবি করেন, অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান সংকট মোকাবিলায় বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা ও দক্ষ নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা কেবল লিবারেল-ন্যাশনাল জোটেরই রয়েছে।
এর আগে লিবারেল পার্টির প্রভাবশালী নেতা অ্যান্ড্রু হ্যাস্টি ওয়ান নেশনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। সমর্থকদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ওয়ান নেশন তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। তিনি জানান, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তার বাড়ি ও নির্বাচনী কার্যালয়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
এই বিরোধের সূত্রপাত হয়, যখন ওয়ান নেশনের একজন শীর্ষ উপদেষ্টা ঘোষণা দেন যে হ্যাস্টির নির্বাচনী এলাকা ক্যানিংয়ে দলটি শক্তিশালী প্রার্থী দেবে। এর আগে হ্যাস্টি দলীয় সহকর্মীদের কাছে মন্তব্য করেছিলেন, ওয়ান নেশনের কাছে নতি স্বীকার করার চেয়ে তিনি রাজনৈতিকভাবে পরাজয় মেনে নিতে প্রস্তুত।
এদিকে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিনসও ওয়ান নেশন নেত্রী পলিন হ্যানসনের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, বহুসাংস্কৃতিক সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে হ্যানসনের অবস্থান অত্যন্ত চরমপন্থী এবং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ক্রিস মিনস বলেন, বহুসাংস্কৃতিক সমাজকে শরিয়া আইন, বহুবিবাহ কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার মতে, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থান দেশটির অন্যতম বড় শক্তি।
তিনি আরও বলেন, ওয়ান নেশনকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে যুক্তি ও নীতির মাধ্যমে। ভোটাররা চাইলে দলটিকে ভোট দিতেই পারেন, তবে তাদের বোঝানোই মূল লক্ষ্য যে অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যতের জন্য আরও কার্যকর বিকল্প রয়েছে।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ওয়ান নেশন উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এর ফলে লিবারেল ও ন্যাশনাল জোটের অনেক রক্ষণশীল সমর্থক ওই দলে ঝুঁকে পড়ছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। এ অবস্থায় আসন্ন নির্বাচনের আগে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণশীল রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au