খাদ্য নিরাপত্তা ও জরুরি সহায়তায় বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন বিশ্বব্যাংকের।ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার, বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারের মূল্য এবং সরবরাহজনিত অস্থিরতা মোকাবিলা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করতে ১১০ কোটি মার্কিন ডলারের দুটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পরপরই এই অর্থায়নের অনুমোদন দেওয়া হলো।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় এই অর্থায়ন বাংলাদেশকে কৃষি উৎপাদন, খাদ্য সরবরাহ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। চলতি মাসের শুরুতে সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন বাংলাদেশি টাকার (প্রায় ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) জাতীয় বাজেট ঘোষণা করে, যেখানে রেকর্ড ১৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
অনুমোদিত অর্থের মধ্যে ৩০ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে জরুরি খাদ্য নিরাপত্তা সহায়তা প্রকল্পে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমন ও বোরো মৌসুমে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার আমদানির জন্য সময়সীমাভিত্তিক অর্থায়ন দেওয়া হবে। বাংলাদেশে মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশই আমন ও বোরো মৌসুমে হয়ে থাকে। ফলে এই দুই মৌসুমের উৎপাদন অব্যাহত রাখা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা সহায়তা প্রকল্পের আওতায় ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ দ্রুত ছাড়ের মাধ্যমে জরুরি সরকারি ব্যয় নির্বাহে ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য নগদ সহায়তা, জীবিকা পুনর্বাসন কর্মসূচি এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বিশ্বব্যাংক আরও জানিয়েছে, এই প্রকল্প থেকে জ্বালানি ও জ্বালানি তেল আমদানির অর্থায়নও করা হবে, যাতে খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ এবং নিরাপদ পানির মতো অত্যাবশ্যকীয় সেবার সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা যায়।
বিশ্বব্যাংকের মতে, বৈশ্বিক বাজারে সার, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দামের ওঠানামার প্রভাব থেকে বাংলাদেশকে সুরক্ষা দিতে এবং অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনের মৌলিক সেবা সচল রাখতে এই অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।