ইরানে বিপ্লবী গার্ডের দুই সেনাকে গুলি করে হত্যা
মেলবোর্ন,৩০ জুন- ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে ইরাক সীমান্তসংলগ্ন পাভেহ শহরে সশস্ত্র হামলায় ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোরে তাদের বাড়িতে…
মেলবোর্ন,৩০ জুন- বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশের চেহারা বদলে যায়। গ্রাম থেকে শহর, অলি-গলি, ছাদ থেকে রাস্তা—সবখানে টানানো হয় কয়েক কিলোমিটার লম্বা পতাকা। ব্রাজিলের হলুদ, আর্জেন্টিনার নীল-সাদা। জার্সি গায়ে পুরো পরিবারের ছবি উঠে যায় ফেসবুকে। মুখে মুখে ফেরে মেসি, নেইমার, এমবাপের নাম। চলে বাজি, পিকনিক, ভূরিভোজ।
এত উন্মাদনা, এত আবেগ—আর কোনো খেলায় দেখা যায় না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নিজের দেশের পতাকা, নিজের মাঠ, নিজের ফুটবলের প্রতি এই ভালোবাসার এক শতাংশও কি আছে? নেই।
সম্প্রতি খবরে এসেছে, কেউ কেউ শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে প্রিয় দলের নামে কয়েক কিলোমিটার পতাকা টানিয়েছেন। অথচ একই গ্রামের মাঠটি বছরের পর বছর দখল হয়ে পড়ে আছে। কেউ ফেরাতে যায়নি।
নব্বই দশক পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নে কমপক্ষে দুই-তিনটি খেলার মাঠ ছিল। বিকেল হলেই আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা মাঠে জড়ো হতেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে টুর্নামেন্ট হতো। চ্যাম্পিয়ন দল পেত একটি বল আর একটি কাপ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, ২০০০ সালে দেশে খেলার মাঠের সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ৭১০টি। ২০২৪ সালে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯১০টিতে। অর্থাৎ ২৪ বছরে অর্ধেকের বেশি মাঠ হারিয়েছি আমরা। অধিকাংশই গেছে বাণিজ্যিক ভবন, মার্কেট ও বাসস্ট্যান্ডের দখলে।
মাঠ হারানোর সঙ্গে হারিয়েছে খেলার সংস্কৃতিও। ২০১০ সালের পর স্যাটেলাইট টিভি ও ইন্টারনেটের কল্যাণে ইউরোপের লিগ ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েছে। মাঠের ছেলে বসে গেছে স্ক্রিনের সামনে। খেলোয়াড়ের বদলে সে হয়ে গেছে দর্শক।
রাষ্ট্রের বাজেটেও খেলাধুলার স্থান কোথায়? ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে খেলাধুলা খাতে বরাদ্দ মাত্র ০.০৭ শতাংশ। সেখানে শিক্ষায় ১.৯ শতাংশ, প্রতিরক্ষায় ৫.৮ শতাংশ। কাঠামো নেই, কোচ নেই, একাডেমি নেই—ফলাফলও নেই।
বর্তমানে ফিফা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৩। জয় নেই, তাই আবেগও নেই। অথচ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ৯০ মিনিটেই হাসায়, কাঁদায়। মেসি-নেইমার আমাদের নয়, কিন্তু মাঠটা তো আমাদের ছিল। আমরা সেই মাঠটাই হারিয়েছি।
এই মানসিকতার নাম ‘আমরা পারব না’। এই ধারণাটি গত তিন দশকে রাষ্ট্রই গেঁথে দিয়েছে।
সমাধান আছে। সরকার সদিচ্ছা দেখালে আগামী এক যুগের মধ্যেই বাংলাদেশ বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে পারে।
প্রস্তাবের নাম: ‘মাঠ ফেরাও, ফুটবল ফেরাও’।
প্রথমত, কাঠামো। পাড়ায় পাড়ায় ক্লাব করতে হবে। প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে ক্লাব, সরকারি জমিতে মাঠ। দখলদার উচ্ছেদ করে মাঠ ফেরাতে হবে। প্রতিটি ক্লাবে ইউ-১২, ইউ-১৫, ইউ-১৮ বয়সভিত্তিক দল থাকবে।
দ্বিতীয়ত, বাছাই। ৪৯৫টি উপজেলায় ৪৯৫টি একাডেমি। এখানে ৮০ শতাংশ পাহাড়ি উপজাতি ও ২০ শতাংশ সমতলের বাঙালি খেলোয়াড় নিতে হবে। কারণ পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, সাঁওতালদের শারীরিক সক্ষমতা, স্ট্যামিনা ও ফুসফুসের ক্ষমতা ফুটবলের জন্য উপযোগী। রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি থেকে এখনও জাতীয় দলে খেলোয়াড় আসছেন। খেলার মাধ্যমে পাহাড়-সমতলের বিভেদও ঘুচবে।
তৃতীয়ত, শীর্ষ পর্যায়। রাঙামাটিতে গড়ে তুলতে হবে ‘জাতীয় ফুটবল সিটি’। চারটি মাঠ, হোস্টেল, জিম ও ডেটা অ্যানালাইসিস ল্যাব নিয়ে আধুনিক একাডেমি। মডেল হবে আইসল্যান্ড। তিন লাখ মানুষের দেশটি ২০১৮ বিশ্বকাপ খেলেছে, কারণ তাদের আছে ১৭৯টি ইনডোর মাঠ।
১২ বছরের রোডম্যাপ ও বাজেট:
প্রথম তিন বছরে ৫০টি পাড়া ক্লাব ও মাঠ উদ্ধার। পরের তিন বছরে উপজেলা একাডেমি ও বিদেশি কোচ। সাত থেকে নয় বছরের মধ্যে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়। আর দশ থেকে বারো বছরের মধ্যে ২০৩৮ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব।
ব্যয়? বছরে ১০ কোটি টাকা। ১২ বছরে ১২ হাজার কোটি। ২০২৪-২৫ বাজেটের মাত্র ০.১২ শতাংশ। একটি মেগা প্রকল্পের পাঁচ শতাংশ টাকাতেই এটি সম্ভব।
জনসংখ্যা আমাদের পক্ষে। ১৮ কোটি মানুষের দেশে ১৫-১৯ বছর বয়সী আছে ১.৪ কোটি। খেলোয়াড়ের অভাব নেই, অভাব কেবল কাঠামোর। ক্রোয়েশিয়া ৪০ লাখ মানুষ নিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছে। আমরা পারব না কেন?
সত্যিটা কঠিন। আমরা ৩ কিলোমিটার পতাকা টানাতে পারি, কিন্তু ৩০ গজ মাঠ বাঁচাতে পারি না। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা আমাদের স্বপ্ন দেখায়। বাংলাদেশের মাঠ আমাদের স্বপ্ন নেয়।
সময় এসেছে বদলানোর। মাঠ দখলমুক্ত করতে হবে। পাড়ায় ক্লাব করতে হবে। পাহাড়-সমতল একসাথে ৮০-২০ মডেলে দল করতে হবে। রাষ্ট্রকে বলতে হবে: ‘গদি না, গোলপোস্ট চাই’।
১২ বছর পর যদি বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলে, স্টেডিয়ামে ১১ জন বাংলাদেশির গায়ে লাল-সবুজ জার্সি থাকবে। সেদিন আর কেউ জমি বিক্রি করে বিদেশের পতাকা টানাবে না। কারণ নিজের পতাকাই সবচেয়ে বড় হয়ে যাবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au