মেলবোর্ন,১ জুলাই- সৌদি আরবে মেয়াদোত্তীর্ণ ওয়ার্ক পারমিটধারী প্রবাসী কর্মীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর দিয়েছে দেশটির সরকার। প্রবাসী কর্মীদের বৈধতা সংশোধন এবং ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের জন্য দেওয়া বিশেষ সময়সীমা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তে হাজারো প্রবাসী কর্মী এবং নিয়োগকর্তা নতুন করে তাদের আইনি অবস্থান নিয়মিত করার সুযোগ পাবেন।
মঙ্গলবার প্রকাশিত সৌদি গ্যাজেট–এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যেসব প্রবাসী কর্মীর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ ১২ মাসেরও বেশি আগে শেষ হয়ে গেছে, তাদের নিয়োগকর্তারা এখন ২০২৬ সালের শেষ দিন পর্যন্ত পারমিট নবায়ন অথবা কর্মীদের বৈধতা সংশোধনের সুযোগ পাবেন।
এছাড়া যেসব কর্মী কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগদানের ছয় মাস পার হলেও এখনো ওয়ার্ক পারমিট পাননি, তারাও এই বিশেষ সুবিধার আওতায় থাকবেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে থাকা কর্মীদের জন্যও বৈধ কাগজপত্র সম্পন্ন করার পথ সহজ হলো।
সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শ্রম আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্যই অতিরিক্ত এই সময় দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান ও কর্মী তাদের নথিপত্র নিয়মিত করার উদ্যোগ নেওয়ায় এ সুযোগ আরও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় নিয়োগকর্তাদের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন অথবা নতুন করে ইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সতর্ক করে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মীদের বৈধতা সংশোধন না করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সৌদি শ্রম আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কয়েক দিন আগে সৌদি সরকারের শ্রমবিষয়ক ডিজিটাল সেবা প্ল্যাটফর্ম কিওয়া ঘোষণা দিয়েছে, যেসব কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট টানা তিন মাসের বেশি সময় ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ রয়েছে, তাদের নাম ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নিয়োগকর্তার রেকর্ড থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপসারণ করা হবে।
কিওয়া আরও জানিয়েছে, কোনো কর্মীর নাম রেকর্ড থেকে অপসারণ করা হলেও বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া তাকে নিয়োগ দেওয়ার সময় সৃষ্ট সব ধরনের আর্থিক দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাকেই বহন করতে হবে। তাই আইনি জটিলতা, জরিমানা এবং অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতি এড়াতে দ্রুত বকেয়া ফি পরিশোধ, ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন অথবা প্রয়োজনে কর্মী স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।