ক্যাপশন ৩:
অপহরণ নাকি ছিনতাই? ঢাকায় হিন্দু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় তদন্তে পুলিশ, বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্টরা।
মেলবোর্ন, ১ জুলাই: রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় ২৫ বছর বয়সী এক হিন্দু শিক্ষার্থী ও খণ্ডকালীন সহকারী পুরোহিতকে অপহরণ, নির্যাতন এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী শুভাশ দেওরী পুরান ঢাকার সেন্ট্রাল ল’ কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে সহকারী পুরোহিত হিসেবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত প্রায় ৮টার দিকে স্বামীবাগ এলাকায় রিকশায় পৌঁছানোর পর কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে শুভাশের মোবাইল ফোন থেকে একটি কল আসে। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা এক ব্যক্তি ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। পরে অপহরণকারীদের দেওয়া একটি নম্বরে ২৬ হাজার টাকা পাঠানোর পর তাকে পুরান ঢাকার একটি সড়কে ফেলে রেখে যাওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
ভুক্তভোগীর স্বজনদের ভাষ্য, নির্যাতনের ফলে তার পা ও কোমরে গুরুতর আঘাত লেগেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফিজুর রহমান জানান, ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে একটি মন্দিরে যাওয়ার পর কয়েকজন ব্যক্তি তাকে একটি বাড়িতে আটকে রাখে। পরে ভোরের দিকে ভবনের একটি অংশ থেকে লাফিয়ে পালানোর সময় তিনি আহত হন। ঘটনার বিভিন্ন দিক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব অনিক কুমার দাস বলেন, শুভাশ দেওরী মন্দিরের স্থায়ী পুরোহিত নন। স্থায়ী পুরোহিতের অনুপস্থিতিতে তিনি মাঝে মাঝে ধর্মীয় আচার পরিচালনা করতেন। এই ঘটনার সঙ্গে মন্দিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মুখপাত্র কাজল দেবনাথ জানিয়েছেন, সংগঠনটি ঘটনাটির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। এটি সাধারণ ছিনতাই বা মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, শুভাশ দেওরীর বাড়ি খুলনা বিভাগের মাগুরা জেলায়। তিনি ঢাকায় এক বন্ধুর সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: এনডিটিভি