তালা ভেঙে আ. লীগ নেতার বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকারসহ মালামাল চুরি
মেলবোর্ন, ২ জুলাই- নাটোর শহরের কানাইখালি মহল্লায় আওয়ামী লীগের নাটোর জেলা সভাপতি সিরাজুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকা বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা বাড়ির একাধিক…
মেলবোর্ন, ২ জুলাই- জুলাইবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জিডিপি)। একই সঙ্গে সংগঠনটি আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদসহ ১৩টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের দাবিও জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন জিডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে নাঈম আহমেদ অভিযোগ করেন, মেহের আফরোজ শাওন দেশে সংহতি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন এবং জুলাইবিরোধী অপতৎপরতায় জড়িত। তিনি বলেন, এই অপতৎপরতা বন্ধ করতে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি তার মানসিক চিকিৎসারও প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত মেহের আফরোজ শাওন জুলাইয়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া কিংবা জুলাইবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার বিষয়ে মুচলেকা না দেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তার মুখে স্কচটেপ বেঁধে রাখা উচিত। এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ্য করেও বিভিন্ন মন্তব্য করেন জিডিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে রুমিন ফারহানা একজন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার সঙ্গে মেহের আফরোজ শাওনের প্রকাশ্য ঘনিষ্ঠতা দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
নাঈম আহমেদ বলেন, রুমিন ফারহানার বর্তমান জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে তাকে সতর্ক থাকতে হবে। জুলাইবিরোধী শক্তি বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখলে তার জনপ্রিয়তাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের শক্তিগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও জুলাই প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ। এ কারণে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষ্য, সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জনগণই ব্যবস্থা নেবে।
মেহের আফরোজ শাওনের দেশে ফিরে আসা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাঈম আহমেদ। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের আমলে তার দেশে ফিরে এসে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়া থেকে বোঝা যায়, সরকারের ভেতরে এমন কেউ আছেন, যিনি তাকে সহায়তা করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বা বিদেশি প্রভাবের মাধ্যমেও এ ধরনের সহযোগিতা হয়ে থাকতে পারে।
বিএনপিকে জুলাইয়ের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করলেও দলটির ভেতরে ‘দিল্লির দোসর’ বা ভিন্ন স্বার্থে কাজ করা ব্যক্তিরা থাকতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, এমন ব্যক্তিদের সহযোগিতায় মেহের আফরোজ শাওন দেশে ফিরে এসেছেন বলে তাদের ধারণা।
জিডিপির আহ্বায়ক বলেন, বিএনপির ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালানো প্রয়োজন। দলটির মধ্যে যারা বিদেশি স্বার্থে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বাদ দিয়ে দল পুনর্গঠন না করা হলে ভবিষ্যতে দলটির নেতৃত্বও সংকটে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মেহের আফরোজ শাওনের বিষয়টি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয় এবং তার পেছনে অভ্যন্তরীণ সহযোগিতাও থাকতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
সংবাদ সম্মেলনে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন নাঈম আহমেদ। তিনি বলেন, এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন। তার অভিযোগ, শেখ হাসিনার আগ্রাসনের সহযোগী হিসেবে যাকে তারা বিবেচনা করেন, তাকে ১০ বছরের সাজা দেওয়া জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
তিনি আরও বলেন, আইনের বিভিন্ন সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে হাসানুল হক ইনু জামিনে মুক্তি পেতে পারেন বলে তাদের আশঙ্কা রয়েছে। তবে তারা আদালতের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করতে চান না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখতে ন্যায়সঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য রায় দেওয়া প্রয়োজন।
এ সময় আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদসহ মোট ১৩টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানান জিডিপির আহ্বায়ক।
সংবাদ সম্মেলনে জিডিপির প্রধান সংগঠক এহসান উল্লাহ এবং সদস্য সচিব আব্দুল আলিমসহ সংগঠনটির অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au