একসঙ্গে ৫ সন্তানের জন্ম, এনআইসিইউ না থাকায় মারা গেল ৪ জন
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচটি নবজাতকের জন্ম দিয়েছেন এক প্রসূতি। তবে সময়ের আগেই জন্ম হওয়ায় এবং অত্যন্ত কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ…
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংখ্যক পরিবার সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ দিয়েছে। একই সঙ্গে সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের আয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পুলিশের ঘুষে ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) প্রধানমন্ত্রীর অনুমতির অপেক্ষা না করে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে তদন্ত শুরু করা উচিত বলে মত দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্নীতি নতুন করে ফিরে এসেছে—এমন ধারণা ভুল। কারণ, দুর্নীতি কখনোই পুরোপুরি দূর হয়নি; বরং এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতর দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী রূপ নিয়েছে।
টিআইবির বাংলাদেশ শাখার সাম্প্রতিক খাতভিত্তিক গৃহস্থালি জরিপে বলা হয়েছে, ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনামলে দুর্নীতি যে মাত্রায় পৌঁছেছিল, অন্তর্বর্তীকালীন ১৮ মাসে তা আরও বিস্তৃত হয়েছে।
জরিপের এই ফলাফলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যেও সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ২৮ জুন সংসদে তিনি বলেন, ইউনূস সরকারের ১৮ মাসে কোথায় কীভাবে দুর্নীতি হয়েছে, কারা জড়িত ছিল—সবকিছু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্তের নির্দেশ দিতে আহ্বান জানান।
প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন যদি সত্যিই স্বাধীন সংস্থা হয়, তাহলে তদন্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ কেন প্রয়োজন হবে। সংস্থাটি চাইলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, তথ্যসূত্র বা অভিযোগের ভিত্তিতে নিজেই তদন্ত শুরু করতে পারে।
টিআইবি জরিপে দেখা যায়, ২০২৫ সালে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ৬৩.৬ শতাংশ পরিবার ঘুষ দিয়েছে, যেখানে ২০২৩ সালে এই হার ছিল ৫০.৮ শতাংশ। তবে গড় ঘুষের পরিমাণ কিছুটা কমলেও ঘুষদাতার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মোট ঘুষের পরিমাণ ২০২৫ সালে প্রায় ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি।
প্রতিবেদনে সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারগুলো পুলিশকে ঘুষ দিতে তাদের আয়ের প্রায় ৩৪ শতাংশ ব্যয় করছে। এটি শুধু দুর্নীতি নয়, বরং মানবিক সংকটের একটি চরম রূপ বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়, এসব দরিদ্র মানুষ পৃথিবীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে থাকতে পারে, যারা খুব সামান্য আয়ের বড় অংশই ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে এটি কেবল প্রশাসনিক দুর্নীতি নয়, বরং সামাজিক অবিচারের একটি ভয়াবহ চিত্র।
জরিপে আরও বলা হয়, ঘুষের ঘটনা মূলত সেবা গ্রহণের সব স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে—পাসপোর্ট অফিস, ভূমি অফিস, যানবাহন নিবন্ধন, পুলিশ স্টেশনসহ বিভিন্ন সরকারি সেবায় সাধারণ মানুষকে হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বড় প্রকল্পভিত্তিক দুর্নীতির চেয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট ঘুষের চাপই বেশি বেড়েছে। যদিও আগের সরকার আমলে বড় অঙ্কের অর্থপাচার, ঋণখেলাপি এবং অবকাঠামো প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বেশি আলোচিত।
এছাড়া অর্থনীতিবিদ ও গবেষকদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যদিও এসব তথ্যের পূর্ণ যাচাই এখনো হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুর্নীতি শুধু রাজনৈতিক সরকারের সময় নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলমান একটি কাঠামোগত সমস্যা, যা যেকোনো প্রশাসনিক পরিবর্তনের পরও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
শেষ অংশে বলা হয়েছে, শুধু নিম্নস্তরের ঘুষ নয়, বরং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং ব্যাংকিং খাতসহ সব পর্যায়ের আর্থিক লেনদেন স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, বরং সমান ও নিরপেক্ষ তদন্তই জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au