দুই বছরে বন্ধ হয়েছে পাঁচ শতাধিক শিল্পকারখানা, ঝুঁকিতে আরও শত শত প্রতিষ্ঠান
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- দেশে গত দুই বছরে পাঁচ শতাধিক শিল্পকারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট, উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস, বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা…
মেলবোর্ন, ৩ জুলাই- বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে বিমান হামলা শুরু হওয়ায় টেকনাফ সীমান্তে আবারও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রায় সাত মাস পর মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলায় সীমান্তের ওপারে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে বহু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার চেষ্টা করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার রাতের বিমান হামলার পর মিয়ানমারের মংডু ও বুথিডং এলাকায় বসবাসরত তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে চলমান সংঘাত ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসার হামলার ঘটনাও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
রোহিঙ্গা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, বুধবার রাতের বিমান হামলায় অন্তত এক রোহিঙ্গা নারী ও দুই শিশু আহত হয়েছেন। মংডু ও বুথিডংয়ে বসবাসরত আত্মীয়দের কাছ থেকে তারা এ তথ্য পেয়েছেন।
টেকনাফের একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা কলিমুল্লাহ জানান, কয়েক দিন আগে পাহাড়ি এলাকায় আরসার একটি দল আরাকান আর্মির কয়েকটি যানবাহনে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আরাকান আর্মির কয়েকজন সদস্য নিহত হন বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁর ভাষ্য, ওই ঘটনার পর আরাকান আর্মি স্থানীয় রোহিঙ্গাদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আরসা এবং মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে তথ্য সরবরাহের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
কলিমুল্লাহ বলেন, বারবার বিমান হামলার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় চরমে পৌঁছেছে। অনেক রোহিঙ্গা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে চাইলেও আরাকান আর্মি তাদের এলাকা ছাড়তে দিচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, মংডুর আশপাশে বসবাসরত অনেক রোহিঙ্গা ইতোমধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছেন। যদি বিমান হামলা ও সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়, তাহলে অনেকে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারেন।
আরাকান আর্মির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, বুধবার রাত ৯টার পর মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর দুটি যুদ্ধবিমান বুথিডং এলাকায় বোমা হামলা চালায়। এতে এক নারী ও দুই শিশু আহত হন।
সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার, বুধবার রাত এবং বৃহস্পতিবার দুপুরের পর মংডুর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা ও আরাকান আর্মির একাধিক অবস্থান লক্ষ্য করেও বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
মংডুর এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বুধবারের হামলাগুলো শহরের কাছাকাছি এলাকায় হলেও বৃহস্পতিবার বিকেলের হামলা রাখাইন রাজ্যের আরও উত্তরের দিকে হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ তুলনামূলক কম শোনা গেছে।
তিনি বলেন, বুথিডংয়ের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় হামলা চালানো হলেও মংডুতে মূলত আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করেই বিমান হামলা চালানো হচ্ছে।
বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এখনো পরিস্থিতি সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অনেক মানুষ রাখাইনের ভেতরেই নিরাপদ আশ্রয়ের চেষ্টা করছেন। তবে সংঘর্ষ ও বিমান হামলা আরও তীব্র হলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে পারেন।
এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, টেকনাফ থেকেও বিমান হামলার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সীমান্তের ওপারে এমন হামলা হলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অনেক রোহিঙ্গা নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, সম্ভাব্য অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে থেমে থেমে বিমান হামলা চলেছে এবং সন্ধ্যার পর এর তীব্রতা আরও বেড়েছে। বিভিন্ন সূত্রে ১৮ থেকে ২৭টি বোমা হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। সংখ্যায় কিছু পার্থক্য থাকলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিমান হামলা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বুধবার সকাল ১০টা ২৪ মিনিটে প্রথম হামলার তথ্য পাওয়ার পর থেকে সারাদিনই এমন খবর আসতে থাকে।
প্রায় সাত মাস শান্ত থাকার পর বুধবার রাতে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী পুনরায় বিমান হামলা শুরু করলে টেকনাফ সীমান্তের বাংলাদেশি বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ৯টার পর জাদিমুড়া থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় পরপর কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে অনেক বাড়িঘর কেঁপে ওঠে এবং আতঙ্কিত মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে আসেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আনিস চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ সীমান্ত এলাকায় স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সূত্রঃ ডেইলি স্টার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au