জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি এএফডির ঐতিহাসিক জয়
জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেয়েছে কট্টর ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে দলটি প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট…
মেলবোর্ন, ৪ জুলাই- রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা আরও জোরালোভাবে প্রদর্শন করছে ইউক্রেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটির তেল শোধনাগার, অস্ত্র কারখানা, সামরিক ঘাঁটি এবং যুদ্ধবিমানে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে রাশিয়ার ভেতরে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে কিয়েভ। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ এখন শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই, বরং ধীরে ধীরে রাশিয়ার অভ্যন্তরেও ছড়িয়ে পড়ছে।
ইউক্রেনীয় বাহিনীর একের পর এক হামলায় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও সামরিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বারবার তেল শোধনাগারে হামলার ফলে দেশটিতে জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে। কিছু হামলার পর বিস্ফোরণের শব্দে রাজধানী মস্কোর বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটতে দেখা গেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা এবং প্রেসিডেন্টের বাসভবন রক্ষায় রাশিয়া তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশ মস্কোকেন্দ্রিক এলাকায় মোতায়েন করেছে। এতে দেশের অন্যান্য অঞ্চল তুলনামূলকভাবে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে বলে তার দাবি। যদিও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হামলাগুলোর কারণে কিছু সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার কথা স্বীকার করলেও পরিস্থিতিকে অতটা গুরুতর নয় বলে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
অন্যদিকে ইউক্রেনের ওপরও পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। রাজধানী কিয়েভে রাতভর চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ডনেস্ক ফ্রন্টে রুশ বাহিনী নতুন করে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জেলেনস্কি রাশিয়ার ভেতরে চালানো এসব অভিযানকে ‘দূরপাল্লার নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত থেকে শত শত কিলোমিটার দূরের সামরিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে রাশিয়ার যুদ্ধক্ষমতা দুর্বল করাই এ কৌশলের উদ্দেশ্য।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে ইউক্রেনের তৈরি ‘ফ্ল্যামিঙ্গো’ ক্ষেপণাস্ত্রকে নির্ভুলভাবে রুশ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে দেখা গেছে। এর মধ্যে কামান ও গোলাবারুদ উৎপাদনকারী গুরুত্বপূর্ণ ‘তিতান-বাররিকাদি’ কারখানাও রয়েছে। এর আগে ‘স্পাইডারওয়েব’ নামে পরিচিত একটি অভিযানে ছোট আকারের বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে সীমান্ত থেকে অনেক দূরে অবস্থানরত রুশ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার ঘটনাও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে।
বর্তমানে ইউক্রেন নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন ও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। এর ফলে মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গসহ রাশিয়ার অভ্যন্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও হামলার আওতায় চলে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৬ সালে ইউক্রেন ধারাবাহিক দূরপাল্লার হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার রসদ ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং কার্যত যুদ্ধকে রাশিয়ার ভূখণ্ডের ভেতরে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার প্রায় ১৪ লাখ সেনা হতাহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ইউক্রেনের এই সক্ষমতা অর্জনে দীর্ঘ সময় লেগেছে। শুরুতে পশ্চিমা দেশগুলোর অস্ত্র ব্যবহারে নানা বিধিনিষেধ থাকলেও এখন কিয়েভ নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন বাড়িয়ে দূরপাল্লার হামলায় আরও কার্যকর হয়ে উঠেছে। যদিও প্রতিটি সফল অভিযানের পাশাপাশি রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রযুক্তির কারণে অনেক হামলাও ব্যর্থ হচ্ছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনতে ইউক্রেন ৪০ দিনের একটি বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তবে চলমান সংঘাতের মধ্যে এখন পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানের তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। একই সময়ে ইউরোপীয় দেশগুলোকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au