মেলবোর্ন, ৫ জুলাই- দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউল, ফকির, সন্ন্যাসী ও সুফি সাধকদের ওপর হামলা এবং মাজারে ভাঙচুরের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত দুই মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন।
হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও দেবাশীষ রায় সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত ২১ জুন এ আদেশ দেন। শনিবার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রধান তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেবেন।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় কারণের কথা বলে কিছু দুষ্কৃতিকারী বাউল, ফকির, সুফি সাধক ও সন্ন্যাসীদের ধর্মীয় চর্চায় বাধা দিচ্ছে এবং শারীরিক হামলা চালাচ্ছে। এতে ভুক্তভোগীদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
শুনানি শেষে আদালত শুধু তদন্তের নির্দেশই দেননি, একই সঙ্গে এ বিষয়ে একটি রুল জারি করেছেন।
রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন বাউল, ফকির ও সন্ন্যাসীদের ধর্মীয় চর্চা ও বিশ্বাসের ওপর ভবিষ্যতে হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাউল ও সুফি সাধকদের আসর ভাঙচুর, মাজারে হামলা এবং ধর্মীয় চর্চায় বাধা দেওয়ার কয়েকটি ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। হাইকোর্টের এ নির্দেশনার মাধ্যমে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।