মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ জুলাই- পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে প্রথমবারের মতো শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ‘অত্যাচার করবেন না। মনে রাখবেন, এটা কিন্তু একদিন ফিরে আসতে পারে। প্রতিটি কাজেরই প্রতিক্রিয়া আছে।’
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের প্রায় দুই মাস পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছাবার্তা দেন মমতা। তবে শুভেন্দুর নাম সরাসরি উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘যিনি আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, আমার অনেক শুভেচ্ছা থাকবে।’ পাশাপাশি তিনি পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।
এদিকে দলীয় সংকট আরও গভীর হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব নিজেই গ্রহণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুই বিধায়ক কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্রকে।
এর আগে রাজ্য সভাপতির পদে থাকা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পদত্যাগ করেন। তিনি শুধু সভাপতির পদ নয়, দলীয় সব ধরনের দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ান। পদত্যাগের পর তিনি বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন, যা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে আসে।
দলের রাজ্য কার্যালয় নিয়ে বিরোধও নতুন মাত্রা পেয়েছে। কলকাতার ভাড়া নেওয়া তৃণমূলের রাজ্য দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হাতে চলে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তিনি দাবি করেন, ভবনটি দলের বৈধ ভাড়ায় নেওয়া এবং এর সব নথিপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘এটি কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়, এটি দলের সম্পত্তি।’
চন্দ্রিমার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা অভিযোগ করেন, দপ্তর দখলের সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং বিদ্রোহীদের হাতে কার্যালয় তুলে দিয়েছেন। তবে চন্দ্রিমা এ বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে বলেন, ‘যেখানে আস্থা ও বিশ্বাসের ঘাটতি থাকে, সেখানে থাকা যায় না।’
অন্যদিকে, কে প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস, তা নির্ধারণে উভয় পক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। কমিশন আগামী সোমবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও দাবি জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
প্রতীক নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, দলের প্রতীক থাকুক বা না থাকুক, মানুষের সমর্থনই তাঁদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর দাবি, ‘মানুষ গ্রহণ করলে তবেই প্রতীকের মূল্য থাকে। প্রতীক চলে গেলেও আমাদের কণ্ঠস্বর থামানো যাবে না।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় বিভাজন, নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাস এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বার্তা রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।