অতি বিপজ্জনক রূপ ধারণ করে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’
মেলবোর্ন, ৬ জুলাই- যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের দিকে অতি শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’ দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসছে। ঝড়টি আঘাত হানার মাত্র…
মেলবোর্ন, ৬ জুলাই- রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছেন। রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এম. মহবুবউজ্জামান ভবনের নিচে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘জেগেছে রে জেগেছে, এএসভিএম জেগেছে’, ‘এক দফা, এক দাবি, বৈষম্যমুক্ত ভেট ডিগ্রি’, ‘স্বতন্ত্র কোড দিতে হবে’ এবং ‘দাবি যখন মানবে না, ক্লাস-পরীক্ষা চলবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো উপেক্ষিত হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, কম্বাইন্ড ডিগ্রিধারীদের জন্য বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় স্বতন্ত্র কোড চালু, প্রাণিসম্পদ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগবিধিতে কম্বাইন্ড ডিগ্রিধারীদের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতার অবসান, ইন্টার্ন ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের ভাতা এমবিবিএস ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং টিএ-ডিএ চালু, পাশাপাশি ৪৭তম বিসিএসে প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শেকৃবির কম্বাইন্ড ডিগ্রিধারী ১৮ জন প্রার্থী প্রফেশনাল ক্যাডারে সুপারিশ না পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা এবং সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, দেশের নামকরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে তাদের ডিগ্রি ও চাকরির ক্ষেত্রে নানা ধরনের বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এতদিন কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, অতীতেও একাধিকবার প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই দাবিগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ থেমে গেছে। তাই এবার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরবেন না।
এদিকে অনুষদের ডিন অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল লতিফ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানান, তিনি নিজে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)-এ গিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। এছাড়া বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)-সহ যেসব প্রতিষ্ঠানে বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন।
তবে শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, শুধু আশ্বাস নয়, দাবির বাস্তব অগ্রগতি দেখতে চান তারা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও সতর্ক করেছেন আন্দোলনকারীরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au