মেলবোর্ন, ৬ জুলাই- মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ কয়েক মাসের সংঘাতের পর অবশেষে সমুদ্রপথে ইরান ও কাতারের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম আবারও শুরু হয়েছে। প্রায় পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর মধ্যে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু হওয়ায় আঞ্চলিক বাণিজ্যে ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি হলেও উপসাগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার নৌপথ নিয়ে বিরোধ এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
রোববার দোহায় নিযুক্ত ইরানের বাণিজ্যিক সহদূত আব্বাস আবদোলখানি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানি দূতাবাস ও কাতারি কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে ইরানের দাইয়ার বন্দর এবং কাতারের আল রুয়াইস বন্দরের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করা হয়েছে।
ইরানের বাণিজ্যিক সহদূত জানান, এই দুই বন্দর দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানের দাইয়ার বন্দর একাধিকবার হামলার শিকার হওয়ায় সেখানে বাণিজ্যিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল।
গত মাসে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতার মাধ্যমে চার মাসের সংঘাতের অবসানের ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই সমঝোতায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতির মতো সমুদ্রপথে বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ইরান ও কাতারের মধ্যে সমুদ্র বাণিজ্য পুনরায় চালু হলো।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সামুদ্রিক রুট নিয়ে এখনো কিছু বিরোধ এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত জটিলতা রয়ে গেছে। ফলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে বলে মনে করছেন না বিশ্লেষকরা।
এর আগে জুন মাসের শেষ দিকে ইরানের ট্রেড প্রোমোশন অর্গানাইজেশন-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ জেবেল আলি বন্দরে আটকে থাকা ইরানি পণ্য ধীরে ধীরে ছাড় করা শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম এই সমুদ্রবন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়াকে উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই তীরের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও কাতারের মধ্যে সমুদ্র বাণিজ্য পুনরায় চালু হওয়া আঞ্চলিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা হলেও নৌপথের নিরাপত্তা, চলাচলের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই বাণিজ্য পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত হবে না।
সুত্রঃ রয়টার্স