মানচিত্রে সুপার টাইফুন বাভির অবস্থান। ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ জুলাই- যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের দিকে অতি শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’ দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসছে। ঝড়টি আঘাত হানার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস) জরুরি সতর্কবার্তা জারি করে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সিজিটিএন এ তথ্য জানিয়েছে।
আবহাওয়া কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুপার টাইফুন বাভি বর্তমানে অত্যন্ত বিপজ্জনক শক্তি অর্জন করেছে এবং সোমবার ভোর থেকে এটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে। ঝড়টির কেন্দ্রের কাছে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা একটি ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমতুল্য। এছাড়া দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৩১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, রোববার বিকেল কিংবা সন্ধ্যা থেকেই ঝড়ো বাতাস শুরু হতে পারে। বিশেষ করে ঝড়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই উপকূলীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শুধু প্রবল বাতাসই নয়, টাইফুনটির প্রভাবে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, সমুদ্রে ঢেউয়ের উচ্চতা ১০ দশমিক ৭ মিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা প্রায় ১০ তলা ভবনের সমান। ফলে সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল হয়ে উঠবে এবং নৌযান চলাচল মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দল, জরুরি সেবা ও বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারকারী ইউনিটগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আবহাওয়াবিদদের মতে, সুপার টাইফুন ‘বাভি’ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চলতি মৌসুমের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলোর একটি। এর গতিপথ ও তীব্রতা বিবেচনায় ঝড়টি আঘাত হানলে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে বড় ধরনের মানবিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সুত্রঃ দ্য নিউইয়র্ক টাইমস