‘খেলা চালিয়ে যাও’, অবসর নেওয়া নেইমারকে বাবার আবেগঘন আহ্বান
মেলবোর্ন, ৮ জুলাই- আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। তবে তাঁর এই সিদ্ধান্ত সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না বাবা নেইমার সিনিয়র।…
মেলবোর্ন, ৭ জুলাই- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সহযোগিতার ঘোষণা আসে। এর মধ্যে মংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি প্রকল্প চীনের হাতে যাওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে এবং এতে ভারতের উদ্বেগও বেড়েছে।
ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রতিবেশী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত মংলা বন্দরকে ঘিরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন প্রায় ৬৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রকল্পের আওতায় শিল্পকারখানা, গুদাম, সংরক্ষণাগার এবং আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মংলা বন্দরের অবস্থান ভারতের সীমান্ত থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার এবং কলকাতা থেকে ১৮৮ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ভবিষ্যতে এই এলাকায় চীনের উপস্থিতি ভারতের জন্য কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
একই সময়ে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পও নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। নদী খনন, তীর সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং নদীভাঙন রোধের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও কৃষি ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ করার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। তবে ভারতের আশঙ্কা, প্রকল্প এলাকা তাদের গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোরের কাছাকাছি হওয়ায় ভবিষ্যতে এর কৌশলগত প্রভাব পড়তে পারে।
তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির জন্য ভারতের নিজস্ব নীতিগত ব্যর্থতাও বড় কারণ। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকার মংলা বন্দরের পাশে ১১০ একর জমি ভারতের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে বরাদ্দ দিয়েছিল। ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ইভিটা কনস্ট্রাকশনস প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেলেও বছরের পর বছর কোনো কাজ শুরু করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রকল্পটি বাতিল করে দেয় এবং পরে সেটি চীনের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।
একইভাবে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তিও দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন রয়েছে। ২০১১ সালে চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতার কারণে তা আর স্বাক্ষরিত হয়নি। এতে দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর বাংলাদেশ নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের সহযোগিতার দিকে ঝুঁকে পড়ে। যদিও পরে ভারত প্রকল্পে অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছিল, ততদিনে পরিস্থিতি অনেকটাই পরিবর্তিত হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীন শুধু আর্থিক সক্ষমতার কারণেই নয়, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে। বিপরীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ভারতের দীর্ঘসূত্রতা ও বাস্তবায়নে বিলম্ব নয়াদিল্লির আঞ্চলিক প্রভাবকে দুর্বল করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মংলা বন্দর ও তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা কেবল দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয় নয়। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি, আঞ্চলিক অর্থনীতি এবং ভারত-চীন প্রতিযোগিতার নতুন বাস্তবতার প্রতিফলন। বাংলাদেশের জন্য এসব প্রকল্প উন্নয়ন ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করলেও, একই সঙ্গে অঞ্চলজুড়ে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতাও আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au