বিশ্ব

সোনার বাংলাদেশ আজ অন্ধকারে: কার লাভ হলো ৫ আগস্টে?

সরদার সেলিম রেজা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পরিবেশ কর্মী, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: বাংলাদেশ ইতিহাস ঐতিহ্য কেন্দ্র।

  • 5:25 pm - July 07, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২২৬ বার
সরদার সেলিম রেজা। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৭ জুলাই- ৫ আগস্টের পর থেকে দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় শব্দ একটি – ফ্যাসিস্ট। শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট বলা হচ্ছে। যত্রতত্র, ফেসবুকে, টকশোতে, দেয়ালে দেয়ালে।

কিন্তু জাতির কাছে প্রশ্ন – তাহলে এই ২৩ মাস ধরে দেশে কী চলছে? এগুলো কি ফ্যাসিস্ট আচরণ নয়?

সম্প্রতি উপস্থাপক শারমিন চৌধুরীর সাথে সাবেক র‍্যাবের গোয়েন্দা প্রধান খায়রুল ইসলামের ইন্টারভিউ চোখে পড়লো। তিনি স্পষ্ট বললেন – “আমি সেনা কর্মকর্তা হিসেবে ডিজিএফআইতে ৩ বছর চাকরি করেছি। আমি কখনো আয়না ঘর দেখিনি।”

অথচ ইউনূস সরকার ৫ আগস্টের ৬ মাস পর র‍্যাবের লকআপকে জাতির সামনে “আয়না ঘর” হিসেবে উপস্থাপন করলো। ছোট ছোট কক্ষ বানিয়ে, আয়না লাগিয়ে ভিডিও-ছবি ছাড়লো। উদ্বোধনের দিন বলা হলো – “ভালো করে তৈরি করতে একটু সময় লেগেছে”।

আগে দেখেনি, নামও শুনেনি। তবে ৫ আগস্টের পর আলোচনা হচ্ছে।
নোবেলজয়ী, শান্তির দূত বলে যাকে পরিচয় করানো হয়, সে রাষ্ট্রীয় টাকা খরচ করে মিথ্যা নাটক মঞ্চস্থ করে। আন্তর্জাতিক মিডিয়াকে দেখায়। দেশের মানুষকে বোকা বানায়। এটা ফ্যাসিবাদ না তো কী?

৫ আগস্টের পর আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক ছেলে-মেয়ে এখন রাষ্ট্রের দখলদার। দখল, তদবির বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান – কোথাও তাদের দাপট নাই এমন জায়গা নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসিতে বন্যার্তদের জন্য ১৫ কোটির বেশি টাকা তোলা হয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে গেছে কিনা তার কোনো হিসাব নেই। কৈফিয়ত কেউ চায়নি। মিডিয়া হাউজগুলো মবের ভয়ে চুপ।

২৪ এর সমন্বয়করা ৬ মাসে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছিল। গাড়ি, বাড়ি, ফ্ল্যাট সব হয়েছে ।

অন্যদিকে হাজার হাজার শিল্প-কারখানা বন্ধ। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিনিয়োগ নাই। রিজার্ভ তলানিতে। ডলারের দাম আকাশে। দ্রব্যমূল্যের আগুনে মানুষ পুড়ছে। রপ্তানি কমেছে। প্রবাসী রেমিট্যান্সে ভাটা। মানুষের আস্থা নাই।

আওয়ামী লীগ এবং তাদের অঙ্গসংগঠনের কেউ এখন প্রকাশ্যে কথা বলতে পারে না। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলে বাড়িতে হামলা। দোকান ভাঙচুর। পরিবারকে হুমকি।

গুম হচ্ছে। খুন হচ্ছে। গণপিটুনিতে মানুষ মরছে। পুলিশের উপর হামলা। থানা ভাঙচুর। বিচারহীনতা। আইন নিজের হাতে।

সংখ্যালঘুদের মন্দির-বাড়িতে হামলা। দেশত্যাগের হিড়িক। রাষ্ট্র নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। যারা মানবাধিকারের কথা বলতো, তারাই আজ চুপ।

প্রথম আলো, ডেইলি স্টার – সম্পাদকরা মানবতা আর নীতির কথা বলেন। সেই নীতি আজ কোথায়?

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার “রাষ্ট্রদ্রোহ”। আর ১৫ কোটি টাকার হিসাব না চাওয়া “জাতীয় ঐক্য”।

বর্তমান তথ্য উপদেষ্টা ডা: জায়েদুর রহমান প্রকাশ্যে বলছেন – শেখ হাসিনার কোনো সংবাদ যেন কোনো মিডিয়ায় প্রকাশ না হয়।
অথচ আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে বিএনপি-জামাত সহ সব দলের নেতারা টিভি টকশোতে গেছে। এই জায়েদুর নিজেও নিয়মিত গেছে। তখন বাঁধা ছিল না। কারণ তখন গণতন্ত্র ছিল। ভিন্নমতের অধিকার ছিল।

বৈদেশিক সম্পর্কেও ধস। ভারত, চীন, আমেরিকা – সবার সাথে দূরত্ব। কূটনীতি নাই। দেশ আন্তর্জাতিকভাবে একা হয়ে পড়ছে।

শিক্ষা ব্যবস্থা ২৩ মাসে ধ্বংস। “কোটা না মেধা” বলে যারা এমপি-মন্ত্রী হলো, তাদের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নাই। সেশনজট। ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস। শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে বসতে পারছে না।

হাসপাতালে ওষুধ নাই। চিকিৎসা নাই। স্কুল-কলেজে রাজনীতি।

শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা নাই। চারিদিকে মৌলবাদী পুনর্জাগরণের আস্ফালন। বইমেলায় বই পোড়ানো হয়। শিল্পী-লেখক হুমকি পায়।

ফলাফল: ২০ লক্ষ শিক্ষিত তরুণ এই অবস্থা দেখে দেশ ছেড়েছে। চারিদিকে অস্থিরতা আর ভয়ের বাংলাদেশ।

আওয়ামী লীগের সময়ে বিএনপি লাখ লাখ লোক নিয়ে সমাবেশ করেছে। পুরো ঢাকা শহর জ্যাম হয়েছে। পুলিশ নিরাপত্তা দিয়েছে। কাউকে মব করা হয়নি।

শেখ হাসিনা দেশকে ভালোবাসতেন। সুন্দরভাবে পরিচালনা করেছিলেন। গণতন্ত্র ছিল। মৌলিক অধিকার ছিল। আপনি সরকারের সমালোচনা করে পত্রিকায় লিখতে পারতেন। টিভিতে সরকারকে ধুয়ে দিতে পারতেন।

আর এখন? ১০ জন মানুষ এক জায়গায় দাঁড়ালেই মব আসে। পিটায়। মামলা দেয়।

ফ্যাসিবাদ মানে: ভিন্নমত দমন, মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ, মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা, মব দিয়ে বিচার, রাষ্ট্রীয় লুটপাট। ২৩ মাসে পাঁচটাই হয়েছে।

“সোনার বাংলাদেশ” আজ ষড়যন্ত্রের কালো থাবায়। কার লাভ হলো?

যারা “শান্তির দূত” সেজেছিল, তারা মিথ্যা “আয়না ঘর” বানায়।
যারা “দুর্নীতির বিরুদ্ধে” ছিল, তারা আজ কোটি টাকার মালিক।
যারা “মেধার” কথা বলেছিল, তারা আজ কোটায় এমপি-মন্ত্রী।

দেশ কি এই জন্য রক্ত দিয়েছিল? যেখানে কথা বলা যাবে না, লেখা যাবে না, ব্যবসা করা যাবে না, পড়াশোনা করা যাবে না, চিকিৎসা পাওয়া যাবে না?

সময় এসেছে হিসাব মেলানোর। সময় এসেছে নিজের ভুল স্বীকার করার। নইলে ইতিহাস একদিন লিখবে – “একটা জাতি গুজব আর নাটক দেখে নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই ধ্বংস করেছিল।”

এই শাখার আরও খবর

অপ্রতিমের মা-বাবাকে ফোনে হুমকি, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

কুমিল্লায় আলোচিত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর তার মা-বাবা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারকে গালিগালাজ ও…

মেঘনা নদী থেকে তিন ভাইবোনের লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ বাবা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুই দিন পর একই পরিবারের তিন ভাইবোনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন তাদের বাবা হেলাল…

সিয়াটল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পাকিস্তানি ‘অভিশপ্ত কনে’

বার্লিন ও ওয়াশিংটনে প্রশংসা পাওয়ার পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী রাতে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে পাকিস্তানি নির্মাতা সারমাদ খুসাতের সিনেমা ‘লালি’। দক্ষিণ এশিয়ার চলচ্চিত্র…

চ্যাটজিপিটির ৫৩ ব্যবহারকারীর ছবি অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্টের কার্যক্রমের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটির ব্যবহারকারীদের ৫৩টি ছবি অনুমতি ছাড়া অনলাইনের বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে ওপেনএআই। ঘটনাটি গত জুলাইয়ে…

ইন্দোনেশিয়াকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের টানা জয়

এশিয়ান গেমসের পুরুষ হকিতে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চলতি আসরে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও…

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ঝড়, জরুরি অবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দিকে এগিয়ে আসা শক্তিশালী ‘নরইস্টার’ ঝড়কে কেন্দ্র করে লাখো মানুষকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টি, প্রবল বাতাস, বড় ঢেউ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au