‘খেলা চালিয়ে যাও’, অবসর নেওয়া নেইমারকে বাবার আবেগঘন আহ্বান
মেলবোর্ন, ৮ জুলাই- আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। তবে তাঁর এই সিদ্ধান্ত সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না বাবা নেইমার সিনিয়র।…
মেলবোর্ন, ৮ জুলাই- দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। শেষ ১৫ মিনিটে টানা তিন গোল করে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখে মিশর। ১৫ মিনিটেই কর্নার থেকে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে দলকে এগিয়ে দেন ইয়াসির ইব্রাহিম। মারওয়ান আতিয়ার নিখুঁত কর্নার থেকে ডি-বক্সের মাঝখানে উঠে পোস্টের ডান দিকের নিচের কোণ দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। গোল হজমের পরপরই সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
২০ মিনিটের মাথায় নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। ২১ মিনিটে স্পট কিক নিতে আসেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে তাঁর বাঁ পায়ের শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর।
বিশ্বকাপে নেওয়া আটটি পেনাল্টির মধ্যে এটি ছিল মেসির চতুর্থ মিস। চলতি বিশ্বকাপেও এটি তাঁর দ্বিতীয় পেনাল্টি ব্যর্থতা। এর আগে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও স্পট কিক থেকে গোল করতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে এই টুর্নামেন্টে মোস্তফা শোবেইরের দ্বিতীয় পেনাল্টি সেভ এটি। এর আগে তিনি ইরানের মেহদি তারেমির পেনাল্টিও রুখে দিয়েছিলেন।
প্রথমার্ধে একাধিকবার আক্রমণে উঠলেও গোলের দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা। ২৮ মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের ক্রস থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন মোস্তফা। ৩৮ মিনিটে মেসির দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরের মিনিটে তাগলিয়াফিকোর কাটব্যাক থেকে হুলিয়ান আলভারেজের শটও ঠেকিয়ে দেন মিশরীয় গোলরক্ষক।
প্রথমবারের মতো চলতি বিশ্বকাপে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। তবে মিশরের ঘন রক্ষণ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হয়। মাঝেমধ্যে মেসি ও ডি পল সুযোগ তৈরি করলেও গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর ছিলেন অনড়।
এরই মধ্যে পাল্টা আক্রমণে আবারও আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠায় মিশর। হাসানের পাস ধরে জিকো বল জালে জড়ালেও আক্রমণের শুরুতে ফাউলের কারণে ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় গোলটি বাতিল হয়। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আর্জেন্টিনা।
তবে ৬৭ মিনিটে আরেকটি আক্রমণ থেকে এবার আর রক্ষা হয়নি। মিশর দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ২-০ করে নেয়। কঠিন এই পরিস্থিতিতে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা।
৭৯ মিনিটে লিওনেল মেসির দারুণ ক্রস থেকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো হেডে গোল করে ব্যবধান কমান। গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর বলটি ঠেকানোর চেষ্টা করলেও সেটি পোস্টের ভেতরের কোণ ঘেঁষে জালে জড়িয়ে যায়। অফসাইডের আবেদন করেও লাভ হয়নি মিশরের।
গোল পাওয়ার পর আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। ৮৪ মিনিটে নিজেই গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান মেসি। তাঁর জোরালো শট গোলরক্ষকের হাতে লেগে ক্রসবারের নিচে আঘাত করে জালে প্রবেশ করে। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের অষ্টম গোল করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। একই সঙ্গে টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তিও গড়েন তিনি।
সমতায় ফেরার পরও আক্রমণ থামায়নি আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে লাউতারো মার্টিনেজের বাড়ানো বলে বক্সের মাঝখান থেকে দুর্দান্ত হেডে জয়সূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। তাঁর গোলে ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১৫ মিনিটে তিন গোল করে বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ উপহার দিল আর্জেন্টিনা। এই জয়ে শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করল তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au